বাংলায় নতুন করে শিল্পায়নের পরিবেশ গড়ে তোলাই এখন রাজ্য সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। সেই লক্ষ্যেই শিল্পপতিদের আস্থা ফেরাতে সক্রিয় হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। মুম্বই সফরে শিল্পমহলের সঙ্গে বৈঠকের পর শমীকের দাবি, অতীতে পশ্চিমবঙ্গ ছেড়ে চলে যাওয়া বহু শিল্পপতি আবার রাজ্যে বিনিয়োগ করতে আগ্রহ দেখিয়েছেন। একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীও জানিয়েছেন, খুব দ্রুত প্রায় ২১০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ পশ্চিমবঙ্গে আসতে চলেছে।
বিনিয়োগ আকর্ষণের উদ্দেশ্যে সম্প্রতি মুম্বই সফরে যান শমীক ভট্টাচার্য। সেখানে একাধিক শিল্প ও ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করেন তিনি। রাজ্য সরকারের পরিকল্পনা, আগামী সেপ্টেম্বর মাসে পশ্চিমবঙ্গে একটি বৃহৎ বিজনেস সামিট আয়োজন করা, যেখানে দেশ-বিদেশের শিল্পপতি ও বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে শুক্রবার নিউ টাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, রাজ্যে একটি হোসিয়ারি কারখানা এবং একটি ইস্পাত কারখানা গড়ে তোলার প্রস্তাব ইতিমধ্যেই রয়েছে। প্রশাসন দ্রুত সেই প্রকল্পগুলিকে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করছে বলেও তিনি জানান।
মুম্বইয়ে শিল্পপতিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, গত কয়েক দশকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে ব্যবসা সরিয়ে নেওয়া বহু শিল্পপতি এখন নতুন পরিস্থিতিতে রাজ্যে ফিরে আসতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তাঁর দাবি, বৈঠকগুলিতে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে এবং শিল্পমহলের একাংশ পশ্চিমবঙ্গে নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে আগ্রহী।
শমীকের বক্তব্য, এখন আর কোনও শিল্পপতিকে রাজনৈতিক মহলের দ্বারস্থ হওয়ার প্রয়োজন নেই। বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে তাঁরা সরাসরি রাজ্য সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। তিনি আরও বলেন, শিল্পায়ন শুধু ঘোষণায় সম্ভব নয়; দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, স্থিতিশীল নীতি এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করাই সরকারের লক্ষ্য। সেই উদ্দেশ্যে শিল্পনীতি নিয়েও কাজ চলছে বলে তাঁর দাবি।
শুক্রবারের অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও রাজ্যের শিল্পোন্নয়ন নিয়ে আশাবাদী বার্তা দেন। তিনি জানান, অদূর ভবিষ্যতেই প্রায় ২১০০ কোটি টাকার নতুন বিনিয়োগ পশ্চিমবঙ্গে আসতে পারে। যদিও কোন সংস্থা বা কোন প্রকল্পে এই বিনিয়োগ হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
মুম্বই সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সামাজিক মাধ্যমে শমীক ভট্টাচার্য লেখেন, পশ্চিমবঙ্গে শিল্প, অবকাঠামো, দক্ষ মানবসম্পদ এবং উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার সম্ভাবনা নিয়ে শিল্পপতিদের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। তাঁর দাবি, বৈঠকে উপস্থিত ব্যবসায়ীরা রাজ্যে ব্যবসা সম্প্রসারণ ও নতুন প্রকল্পে বিনিয়োগের বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছেন।
রাজ্য সরকারের দাবি, শিল্প, কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে সামনে রেখেই আগামী দিনে আরও বিনিয়োগ টানার উদ্যোগ জোরদার করা হবে। প্রশাসন ও শিল্পমহলের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গকে আবারও একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পগন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলাই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।



