‘১০০ কোটির বেশি বিনিয়োগে লাগবে না স্থানীয় অনুমতি’, শিল্পায়নে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

ডানকুনিতে লাক্স কোজ়ি ইন্ডাস্ট্রিজের দ্বিতীয় ইউনিটের উদ্বোধন থেকে শিল্পপতিদের একাধিক আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। জমি বরাদ্দ থেকে অনুমোদন—সব ক্ষেত্রেই দ্রুত পরিষেবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পশ্চিমবঙ্গকে শিল্পবান্ধব রাজ্যে পরিণত করার বার্তা দিলেন তিনি।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

পশ্চিমবঙ্গে শিল্প বিনিয়োগ বাড়াতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। হুগলির ডানকুনিতে লাক্স কোজ়ি ইন্ডাস্ট্রিজের দ্বিতীয় ইউনিটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি জানালেন, ১০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগকারী শিল্প সংস্থাগুলিকে স্থানীয় পঞ্চায়েত বা পুরসভার অনুমতি নিতে হবে না। একইসঙ্গে জমি নিয়ে কোনও সমস্যাও হবে না বলে শিল্পপতিদের আশ্বস্ত করেছেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, শিল্পায়নের পথে অতীতে যেসব বাধা ছিল, নতুন সরকার তা দূর করতে বদ্ধপরিকর। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গকে গুজরাট ও তামিলনাড়ুর মতো বিনিয়োগবান্ধব রাজ্যে পরিণত করাই সরকারের লক্ষ্য। সেই উদ্দেশ্যেই শিল্পপতিদের জন্য প্রশাসনিক প্রক্রিয়া আরও সহজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জমি সংক্রান্ত নীতি নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী জানান, সরকার ডাইরেক্ট ল্যান্ড পারচেজ় পলিসি অনুসরণ করছে। এই নীতির আওতায় সরকার প্রয়োজনীয় জমি সরাসরি ক্রয় করে শিল্প সংস্থার হাতে তুলে দেবে। তিনি বলেন, অতীতের মতো জমি অধিগ্রহণকে কেন্দ্র করে কোনও বিতর্ক বা সংঘাত তৈরি হোক, সরকার তা চায় না।

মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, একই নীতিতে সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনী (BSF), ভারতীয় রেল এবং নতুন বিমানবন্দর প্রকল্পের জন্যও জমির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। শিল্পক্ষেত্রেও একই মডেল অনুসরণ করা হবে, যাতে বিনিয়োগকারীদের জমি নিয়ে কোনও জটিলতায় পড়তে না হয়।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা আসে প্রশাসনিক অনুমোদন নিয়ে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ১০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি, জেলা পরিষদ, পুরসভা বা কর্পোরেশনের আলাদা অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন হবে না। তাঁর মতে, অনেক সময় স্থানীয় স্তরের জটিলতা ও বিলম্বের কারণে শিল্প প্রকল্প আটকে যায়।

এই ধরনের বড় বিনিয়োগের জন্য সিঙ্গল উইন্ডো সিস্টেম চালু থাকবে বলেও জানান তিনি। পশ্চিমবঙ্গ শিল্পোন্নয়ন নিগম (WBIDC), ভূমি দফতর এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদসহ সংশ্লিষ্ট দফতরগুলি এক ছাতার তলায় প্রয়োজনীয় অনুমোদন প্রদান করবে, যাতে শিল্প প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন করা যায়।

রাজ্য সরকারের এই ঘোষণাকে শিল্পমহল কীভাবে গ্রহণ করে এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণে তা কতটা কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে। প্রশাসনের আশা, সহজ অনুমোদন ব্যবস্থা ও জমি নীতির ফলে আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গে শিল্পায়নের গতি আরও বাড়বে।

আরও পড়ুন