এক বছরে ক্যান্টিন বিল ১ কোটি টাকা! প্রিয়দর্শিনী মল্লিককে ঘিরে বিতর্কে তদন্তের দাবি জোরালো

উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদে এক বছরে প্রায় ১ কোটি টাকার ক্যান্টিন বিল নিয়ে প্রশ্ন। প্রাক্তন সচিব প্রিয়দর্শিনী মল্লিককে ঘিরে তদন্তের দাবি তুললেন প্রাক্তন সভাপতি।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ (West Bengal Council of Higher Secondary Education)-এ এক বছরে ক্যান্টিন খাতে প্রায় ১ কোটি টাকা খরচের অভিযোগ ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সংসদের প্রাক্তন সচিব প্রিয়দর্শিনী মল্লিক (Priyadarshini Mallick)-এর কার্যকালের এই বিপুল ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রাক্তন সভাপতি চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য (Chiranjib Bhattacharya)। তিনি গোটা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও সরকারি কর্মসূচিতে একটি নির্দিষ্ট ক্যান্টিন সংস্থাই খাবার সরবরাহ করত। তবে মাত্র এক বছরের মধ্যে ক্যান্টিন বাবদ প্রায় ১ কোটি টাকার বিল কীভাবে তৈরি হল, তা নিয়েই উঠেছে প্রশ্ন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই প্রশাসনিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।

প্রাক্তন সভাপতি চিরঞ্জীব ভট্টাচার্যের দাবি, এত বড় অঙ্কের বিল নিয়ে তিনিও প্রথমে নিশ্চিত ছিলেন না। পরে অর্থ আধিকারিকের (Finance Officer) সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি খতিয়ে দেখেন। তাঁর বক্তব্য, এরপর নতুন করে টেন্ডার ডাকার উদ্যোগ নেওয়া হয়। একইসঙ্গে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রাথমিক স্তরে অসংগতির অভিযোগও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।

চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য জানান, তদন্ত হলে তিনি সমস্ত তথ্য ও নথি তদন্তকারী সংস্থার সামনে তুলে ধরতে প্রস্তুত। তাঁর মতে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়াই প্রয়োজন।

অন্যদিকে, প্রিয়দর্শিনী মল্লিক সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, তিনি দায়িত্বে যোগ দেওয়ার পর থেকেই দেখেছেন একই সংস্থাকে ক্যান্টিন পরিষেবার বরাত দেওয়া হচ্ছে। তবে সেই সংস্থার সঙ্গে কোনও লিখিত চুক্তিপত্র ছিল না বলেও দাবি করেছেন তিনি।

প্রিয়দর্শিনীর বক্তব্য, ক্যান্টিন পরিষেবা কোন সংস্থাকে দেওয়া হবে, সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা সভাপতিরই ছিল। তাই কেন একই সংস্থাকে কাজ দেওয়া হয়েছিল এবং কীভাবে এত বড় অঙ্কের বিল তৈরি হল, তার জবাব প্রাক্তন সভাপতির কাছেই রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

উল্লেখ্য, রেশন দুর্নীতি মামলায় (Ration Scam Case) প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক (Jyotipriya Mallick) গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাঁর কন্যা প্রিয়দর্শিনী মল্লিকের নামও আলোচনায় আসে। সেই সময় তিনি উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সচিব পদে কর্মরত ছিলেন।

পরবর্তীকালে রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর প্রশাসনিক স্তরে ব্যাপক রদবদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই সময় প্রিয়দর্শিনী মল্লিককে পদত্যাগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায়। যদিও তিনি পদ ছাড়তে রাজি না হওয়ায় শিক্ষাদপ্তর তাঁকে সচিবের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়।

বর্তমানে প্রিয়দর্শিনী মল্লিক আশুতোষ কলেজ (Asutosh College)-এ সহকারী অধ্যাপক (Assistant Professor) হিসেবে কর্মরত। এদিকে ক্যান্টিন বিল সংক্রান্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করে কি না এবং ভবিষ্যতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, এখন সেদিকেই নজর শিক্ষা মহলের।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন