ইরান-আমেরিকা-ইজরায়েল সংঘাতে তেলের ঝাঁজ, ভারতের অর্থনীতিতে চাপ—কত দিন চলবে যুদ্ধ?

ইরান-আমেরিকা-ইজ়রায়েল সংঘাতে হরমুজ় প্রণালী ও ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি বড় ফ্যাক্টর; তেলের দাম ও শেয়ার বাজারে প্রভাব, ভারতের উদ্বেগ বাড়ছে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনে ঝাঁ-চকচকে শহর বিদীর্ণ, আকাশে জেট ধ্বংস—ইরান বনাম আমেরিকা-ইজ়রায়েল সংঘাতে পুড়ছে পশ্চিম এশিয়া। যুদ্ধের আঁচ এখন ভারতের ঘরেও। লাফিয়ে বাড়ছে অপরিশোধিত তেলের দাম, শেয়ার বাজারে অস্থিরতা। নয়াদিল্লির অন্দরমহলে প্রশ্ন একটাই—এই সংঘাত কত দিন টানবে, আর তার অর্থনৈতিক মাশুল কতটা চড়া হবে?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump দাবি করেছেন, কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই অভিযান শেষ করা সম্ভব, এমনকি ইরানে ক্ষমতার ভরকেন্দ্র বদলাতেও সময় লাগবে না। তবে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, তেহরানের দীর্ঘমেয়াদি লড়াই চালানোর সক্ষমতা খাটো করে দেখার সুযোগ নেই।

ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu-র সুরও কড়া—ইরানকে সম্পূর্ণভাবে দুর্বল না করা পর্যন্ত হামলা চলবে। আমেরিকার পূর্ণ সমর্থন যে তেল আভিভের পাশে রয়েছে, তা-ও স্পষ্ট করেছেন তিনি।

ইরানের শক্তির অঙ্ক

সামরিক সক্ষমতার নিরিখে ‘গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ার’ তালিকায় আমেরিকা শীর্ষে, আর ইজ়রায়েল ও ইরান কাছাকাছি অবস্থানে। ইরানের Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি)-র হাতে প্রায় তিন হাজার ক্ষেপণাস্ত্র থাকার দাবি রয়েছে। শাহাব-৩, সেজ্জিল, খোররামশাহর-৪, খেইবার শেকান এবং ‘হাইপারসনিক’ ফাত্তাহ-১—এই অস্ত্রভাণ্ডার পশ্চিম এশিয়ার একাধিক মার্কিন ঘাঁটি ও ইজ়রায়েলি শহরকে নিশানায় রাখতে সক্ষম। ২,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত নির্ভুল আঘাতের সামর্থ্য পরিস্থিতিকে জটিল করছে।

ড্রোন শক্তিও উল্লেখযোগ্য—শাহেদ-১৩৬, মোহাজের-৬, আবাবিল। ঝাঁকে ঝাঁকে হামলায় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।

হরমুজ প্রণালী: কৌশলগত ট্রাম্প কার্ড

পারস্য উপসাগরের Strait of Hormuz নিয়ন্ত্রণ ইরানের বড় সুবিধা। বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত তেলপথ এই সামুদ্রিক রুটে অস্থিরতা মানেই বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ফাতেহ ও গাদির শ্রেণির ডুবোজাহাজ, স্পিডবোট ও ‘ওয়াটার মাইন’—সব মিলিয়ে সমুদ্রপথে চাপ বজায় রাখছে তেহরান।

রাশিয়া-চিন ফ্যাক্টর

পশ্চিমি রিপোর্টে দাবি, রাশিয়ার কাছ থেকে ইস্কান্দার ক্ষেপণাস্ত্র ও ভারবা এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম পেয়েছে ইরান। প্রয়োজনে এস-৪০০ সরবরাহের জল্পনাও রয়েছে। অন্যদিকে চিনও জ্বালানি স্বার্থে তেহরানকে পরোক্ষ সমর্থন দিতে পারে—এমন আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা।

পালটা যুক্তি

কিছু সামরিক বিশ্লেষকের মতে, ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বে ধারাবাহিক হামলা তাদের ভিত নড়িয়ে দিয়েছে। সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই-সহ একাধিক উচ্চপদস্থ নেতার মৃত্যুর দাবি পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করেছে। অস্থায়ী কাউন্সিল এখন দেশশাসনের দায়িত্বে। তারা কি সমঝোতার পথে হাঁটবে, নাকি ‘শেষ রক্তবিন্দু’ পর্যন্ত লড়বে—সেটাই বড় প্রশ্ন।

ভারতের জন্য বার্তা

ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল আমদানিকারক। হরমুজ় প্রণালী অচল হলে জ্বালানি সরবরাহে ধাক্কা লাগবে, বাড়বে মূল্যস্ফীতি। শেয়ার বাজারে অস্থিরতা ইতিমধ্যেই তার ইঙ্গিত দিচ্ছে। দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ মানে জ্বালানি, বাণিজ্য ও কূটনীতিতে বহুস্তরীয় চাপ।

যুদ্ধের গতি নির্ভর করবে অস্ত্রভাণ্ডারের স্থায়িত্ব, মিত্রদেশের সহায়তা এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের উপর। আপাতত পশ্চিম এশিয়ার আকাশে ধোঁয়া ঘন—সময়ের অপেক্ষা, সংঘাত কোন পথে মোড় নেয়।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত