নজরবন্দি ব্যুরোঃ কমতে শুরু করেছে শীতের আমেজ, সেই সঙ্গে ধীরে ধীরে বাড়ছে তাপমাত্রা। এমন পরিস্থিতিতে সোমবার থেকেই দক্ষিণবঙ্গে রয়েছে বৃষ্টির পূর্বাভাস। ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত জাঁকিয়ে ঠান্ডা এখনও উপভোগ করতে পারল না বঙ্গবাসী। ঝঞ্ঝা কাঁটায় ফের হাওয়া-বদল হতে চলেছে রাজ্যের। সোমবার থেকে অফিসে গেলেই সঙ্গে রাখুন ছাতা। অন্তত এমনটাই বলছে আলিপুর হাওয়া অফিস।
আরও পড়ুনঃ করোনার সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে ওমিক্রন, সংক্রমণে রাশ টানতে ভরসা বুস্টার ডোজ!
পশ্চিমী ঝঞ্ঝার জেরেই রাজ্য এই হাওয়া বদল বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। মঙ্গলবার থেকে পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রামে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির হতে পারে। হাওয়া অফিস জানিয়েছে, ১২ থেকে ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে বৃষ্টির সম্ভবনা রয়েছে। হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে উত্তরবঙ্গেও। শিলাবৃষ্টিও হতে পারে হতে পারে বলে জানিয়েছে আলিপুর।
এই বৃষ্টির ফলে রাতে তাপমাত্রা কিছুটা কমবে। তবে ১৬ জানুয়ারি থেকে আবহাওয়ার কিছুটা পরিবর্তন হবে বলে জানা গিয়েছে। শীত কি ফিরবে? এর উত্তরে হাওয়া অফিস জানিয়েছে, পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাব কেটে গেলে তাপমাত্রা আবার কিছুটা স্বাভাবিক হবে। কমতে পারে রাত ও দিনে তাপমাত্রা।
সোমবার, শহর কলকাতার সর্বোচ্চল তাপমাত্রা ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে। শহরে হালকা শীতের আমেজও অনুভূত হবে। তবে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় প্রায় ৫ ডিগ্রি তাপমাত্রা বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে আলিপুর হাওয়া অফিস। এরপরে, বৃহস্পতিবার থেকে তাপমাত্রা কমার কোনও সম্ভাবনা নেই। উল্টে আরও বাড়তে পারে তাপমাত্রা। ফলে, জানুয়ারীর দ্বিতীয় সপ্তাহেও কার্যত উধাও হবে শীত। রাজস্থান হয়ে আসা ওই পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবেই বঙ্গে প্রচুর জ্বলীয় বাষ্প ঢুকতে শুরু করবে। ফলে বাধা পাবে উত্তুরে বাতাস। যার জেরেই হবে বৃষ্টিপাত। যদিও আবহবিদদের একাংশের মত, এরপরে অবশ্য কিছুটা তাপমাত্রা কমবে।
জানুয়ারির শীতলতম দিন ছিল গত ৪ তারিখ, মঙ্গলবার। ওইদিন তাপমাত্রা কমে দাঁড়ায় ১২.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা স্বাভাবিকের থেকে প্রায় ১ ডিগ্রি কম। অন্যদিকে, মরসুমের শীতলতম দিন ছিল ২০ ডিসেম্বর। সেদিনও তাপমাত্রা বারোর কোঠায় নেমেছিল। বছরের শেষ দিনে কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৫.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
বজ্রবিদ্যুৎ সহ শিলা বৃষ্টি রাজ্যে, কি বলছে হাওয়া অফিস

এই মুহূর্তে দু’টি পশ্চিমী ঝঞ্ঝা অবস্থান করছে, একটি পূর্বদিকে সরছে এবং আর একটি রাজস্থান থেকে মধ্যপ্রদেশ বরাবর একটি ঘূর্ণাবর্তের চাদর তৈরি করে রেখেছে। এর ফলে বরফের চাদরে ঢেকেছে উত্তর ভারতের একাংশ। উত্তরাখণ্ডের গঙ্গোত্রী, বদ্রীনাথে চলছে তুষারপাত। হিমাচলের সিমলা ও শ্রীনগরের উধমপুরে বরফ পড়ছে। অন্য দিকে রাজ্যে বৃষ্টির সম্ভবনা তৈরি হয়েছে।



