রাজ্যের দুই প্রান্তে সম্পূর্ণ ভিন্ন আবহাওয়ার ছবি। একদিকে দক্ষিণবঙ্গে বাড়ছে গরম ও আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি, অন্যদিকে উত্তরবঙ্গে জোরদার হচ্ছে প্রাক-বর্ষার বৃষ্টি। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সপ্তাহের শেষভাগে উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।
বর্তমানে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ সংলগ্ন ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশা এলাকায় একটি ঘূর্ণাবর্ত সক্রিয় রয়েছে। পাশাপাশি উত্তর-পূর্ব ও পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন এলাকাতেও একটি ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করছে। এই পরিস্থিতির প্রভাবেই রাজ্যের আবহাওয়ায় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে।


এদিকে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর অগ্রগতি কিছুটা মন্থর হয়েছে। সাধারণত ১ জুন কেরলে বর্ষা প্রবেশ করলেও এবার অনুকূল পরিবেশের অভাবে তা বিলম্বিত হয়েছে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে কেরল ও তামিলনাড়ুর বিস্তীর্ণ অংশে মৌসুমি বায়ুর প্রবেশের সম্ভাবনা রয়েছে।
উত্তরবঙ্গে চলতি সপ্তাহ জুড়ে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। মঙ্গলবার থেকেই দার্জিলিং, কালিম্পং-সহ পার্বত্য ও সংলগ্ন জেলাগুলিতে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি শুরু হতে পারে। বৃহস্পতিবার থেকে শনিবারের মধ্যে দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
বৃষ্টির জেরে উত্তরবঙ্গের তাপমাত্রাও কমতে পারে। সপ্তাহান্তের আগেই পারদ ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে যেতে পারে বলে পূর্বাভাস। তবে মঙ্গল ও বুধবার জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার এবং দার্জিলিংয়ের সমতল এলাকায় গরম ও অস্বস্তি কিছুটা বজায় থাকবে।


অন্যদিকে দক্ষিণবঙ্গে আপাতত বড়সড় ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা কম। তাপমাত্রা খুব বেশি না বাড়লেও বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকায় অস্বস্তি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। কলকাতায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকতে পারে। পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে পারদ ৩৯ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছতে পারে।
তবে বৃহস্পতিবার থেকে দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়ায় কিছুটা পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, নদিয়া এবং মুর্শিদাবাদে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হতে পারে। এর সঙ্গে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়াও বইতে পারে।
কলকাতার আকাশ আগামী কয়েকদিন মূলত পরিষ্কার থেকে আংশিক মেঘলা থাকবে। দিনের বেলায় রোদের তেজ বাড়বে এবং জলীয় বাষ্পের আধিক্যের কারণে প্রকৃত তাপমাত্রার তুলনায় অনেক বেশি গরম অনুভূত হবে। তবে বৃহস্পতিবারের পর স্থানীয় বজ্রগর্ভ মেঘের প্রভাবে হালকা ঝড়বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
বর্ষার আনুষ্ঠানিক প্রবেশ এখনও বাকি থাকলেও রাজ্যের আবহাওয়ায় পরিবর্তনের ইঙ্গিত স্পষ্ট। উত্তরবঙ্গে ভারী বৃষ্টি এবং দক্ষিণবঙ্গে গরমের অস্বস্তির মধ্যে আগামী কয়েকদিন আবহাওয়ার দিকে বিশেষ নজর রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন আবহাওয়াবিদরা।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



