বাংলার দুর্গাপুজোকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও বড় পরিচিতি দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে নয়া উদ্যোগের জল্পনা তুঙ্গে। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে আলোচনা, চলতি বছরের দুর্গোৎসবে কলকাতায় আসতে পারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের এই সম্ভাব্য উপস্থিতি ঘিরে ইতিমধ্যেই উৎসবপ্রেমীদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
সূত্রের খবর, দুর্গাপুজোকে শুধু বাংলার নয়, গোটা বিশ্বের সাংস্কৃতিক আকর্ষণে পরিণত করার ভাবনা নিয়ে এগোচ্ছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। ইউনেস্কোর ‘ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ অফ হিউম্যানিটি’ স্বীকৃতি পাওয়ার পর থেকেই বাংলার দুর্গাপুজো আন্তর্জাতিক পরিসরে বিশেষ গুরুত্ব অর্জন করেছে। এবার সেই মর্যাদাকে আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে বলে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা।


দিল্লির রাজনৈতিক অন্দরে আলোচনা, উৎসবের মরসুমে কলকাতায় কয়েকদিন কাটাতে পারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ষষ্ঠী কিংবা সপ্তমীর সময়ে তাঁর শহরে উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা বাড়ছে। এমনকি কোনও একটি দুর্গাপুজো মণ্ডপে তাঁর অংশগ্রহণ বা পুজো-সংক্রান্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিতির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
তবে বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, দুর্গাপুজোর ঐতিহ্য, রীতি বা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মূল কাঠামোয় কোনও পরিবর্তনের প্রশ্ন নেই। বরং বাংলার ঐতিহ্যবাহী এই উৎসবকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও বেশি পরিচিত করে তোলাই মূল লক্ষ্য।
গত কয়েক বছরে কলকাতার একাধিক উল্লেখযোগ্য পুজোয় কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উপস্থিতি দেখা গিয়েছে। বিশেষ করে উত্তর কলকাতার সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারের পুজোয় অমিত শাহর আগমন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই এবার আরও বড় পরিকল্পনার ইঙ্গিত মিলছে।


বিজেপি সূত্রে জানা যাচ্ছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তি, সাংস্কৃতিক প্রতিনিধি এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের কলকাতার দুর্গাপুজোয় আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়েও ভাবনাচিন্তা চলছে। এই কাজে বিদেশে সক্রিয় বিজেপির সহযোগী সংগঠন ‘ওভারসিজ ফ্রেন্ডস অফ বিজেপি’-র ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংগঠন বর্তমানে আমেরিকা, ব্রিটেন, কানাডাসহ ইউরোপের একাধিক দেশে সক্রিয়। আন্তর্জাতিক স্তরে যোগাযোগের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের দুর্গাপুজোর সময়ে বাংলায় নিয়ে আসার রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে বলে সূত্রের দাবি।
বাংলার সবচেয়ে বড় সাংস্কৃতিক উৎসবকে বৈশ্বিক পর্যায়ে আরও উজ্জ্বলভাবে তুলে ধরার এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দুর্গাপুজোর আন্তর্জাতিক আবেদন নতুন মাত্রা পেতে পারে। একই সঙ্গে কলকাতা আরও একবার বিশ্বের সাংস্কৃতিক মানচিত্রে বিশেষ গুরুত্ব নিয়ে উঠে আসবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



