প্রচণ্ড গরমে পড়ুয়াদের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। রাজ্যের একাধিক জেলায় তাপপ্রবাহ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকায় স্কুলগুলিকে আগামী দুই সপ্তাহ প্রয়োজন অনুযায়ী মর্নিং শিফটে ক্লাস নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও শিক্ষা দফতরের সমন্বয়ে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে।
স্কুল শিক্ষা দফতরের তরফে ইতিমধ্যেই সমস্ত জেলার স্কুল পরিদর্শকদের কাছে নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় আবহাওয়া ও পরিস্থিতি বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট জেলার স্কুলগুলির সময়সূচি পরিবর্তনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়েছে। নতুন সময়সূচি চালুর আগে শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক এবং পড়ুয়াদের আগাম জানিয়ে দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, তীব্র গরমের কারণে সম্প্রতি রাজ্যের স্কুলগুলিতে গরমের ছুটি বাড়ানো হয়েছিল। পাহাড়ি এলাকা বাদ দিয়ে রাজ্যের অধিকাংশ স্কুলে ৩১ মে পর্যন্ত ছুটি বহাল ছিল। স্কুল শিক্ষা দফতরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী সরকারি, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত, প্রাথমিক, উচ্চ প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছিল।
মূলত ১১ মে থেকে শুরু হওয়া গরমের ছুটির মেয়াদ পরে বাড়িয়ে ৩১ মে পর্যন্ত করা হয়। এরপর ১ জুন থেকে স্কুলগুলিতে স্বাভাবিক পঠনপাঠন শুরু হলেও অনেক জেলায় তাপমাত্রা এখনও উদ্বেগজনক স্তরে থাকায় এবার মর্নিং শিফটের বিকল্প রাখা হল।
এদিকে পড়ুয়াদের শারীরিক স্বাস্থ্যের বিষয়েও সম্প্রতি একাধিক নির্দেশ জারি করেছে রাজ্য সরকার। স্কুল ব্যাগের অতিরিক্ত ওজন কমাতে কেন্দ্রীয় ‘School Bag Policy 2020’-এর আলোকে নতুন গাইডলাইন কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নতুন নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, কোনও ছাত্রছাত্রীর স্কুল ব্যাগের ওজন যেন তার শরীরের মোট ওজনের ১০ শতাংশের বেশি না হয়। পাশাপাশি প্রি-প্রাইমারি স্তরের শিশুদের জন্য ‘নো ব্যাগ’ নীতি চালুর সুপারিশ করা হয়েছে, যাতে ছোটদের উপর অপ্রয়োজনীয় চাপ কমানো যায়।
শুধু তাই নয়, প্রতিটি স্কুলে ব্যাগের ওজন নিয়মিত পরীক্ষা করার ব্যবস্থা রাখতে বলা হয়েছে। স্কুলে ওজন মাপার যন্ত্র রাখা, বিশুদ্ধ পানীয় জলের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা এবং মিড-ডে মিল পরিষেবা আরও শক্তিশালী করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
ক্রমবর্ধমান গরমের মধ্যে পড়ুয়াদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে শিক্ষা মহল। আগামী কয়েকদিন আবহাওয়ার পরিস্থিতির উপর নজর রেখেই স্কুলগুলির সময়সূচি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।



