রাজ্য সরকারের অগ্রাধিকার কী? কাজের খতিয়ান তুলে ধরে মূল্যায়নের সময়সীমা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

বিজ্ঞাপন
নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকারের বয়স এখনও দেড় মাসও হয়নি। কিন্তু এর মধ্যেই কোন কাজগুলিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, তা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার নিউটাউনের বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা, অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ, জনগণনা এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই এখন সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারের ১২ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ওই সাংবাদিক বৈঠকে কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির সাফল্য এবং পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রের আর্থিক সহায়তার খতিয়ান তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি পূর্বতন তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্প বাস্তবায়নে বাধা ও তহবিল ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগও করেন তিনি।

শুভেন্দুর দাবি, কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নতুন করে অর্থ বরাদ্দ শুরু হয়েছে। তিনি জানান, ১০০ দিনের কাজ প্রকল্প বা মনরেগার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে পশ্চিমবঙ্গের জন্য কেন্দ্র ৭০০ কোটি টাকা অনুমোদন করেছে।

এর পাশাপাশি বিকল্প হিসেবে চালু হতে চলা ‘জিরামজি’ নামে ১২৫ দিনের কর্মসংস্থান প্রকল্পের জন্য চলতি অর্থবর্ষে প্রায় ৫,৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে বলেও দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে নিজের সরকারের সবচেয়ে বড় সাফল্য সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে শুভেন্দু বলেন, এত অল্প সময়ে সরকারের সামগ্রিক মূল্যায়ন করা সম্ভব নয়। তবে কয়েকটি বিষয়কে তিনি বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছেন বলে জানান।

মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, সীমান্তে কাঁটাতারের কাজ এগিয়ে নিতে বিএসএফকে জমি হস্তান্তর, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা জনগণনার কাজ শুরু করা এবং কেন্দ্রীয় জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা রাজ্যের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগকে সরকার অগ্রাধিকারের তালিকায় রেখেছে।

তিনি আরও বলেন, দেশের ২১টি বিজেপি বা এনডিএ-শাসিত রাজ্যে যে ধরনের সরকারি সুবিধা মানুষ পাচ্ছেন, পশ্চিমবঙ্গের নাগরিকরাও সেই সুবিধা যাতে পান, সেই লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছে বর্তমান সরকার।

নিজের সরকারের মূল্যায়নের দায়িত্ব জনগণের উপরই ছেড়ে দিতে চান বলেও জানান শুভেন্দু। তাঁর মতে, মাত্র ৩২-৩৫ দিনের কাজ দেখে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো উচিত নয়। মানুষের ধৈর্য ধরে কিছুটা সময় দেওয়া প্রয়োজন।

মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, চলতি অর্থবর্ষ শেষ হওয়ার পর অর্থাৎ ২০২৭ সালের ৩১ মার্চের পরে সরকারের কাজ বিচার করা উচিত। তখনই বোঝা যাবে প্রশাসনিক ব্যবস্থায় কতটা পরিবর্তন এসেছে এবং সরকারের নীতিগত অবস্থানের বাস্তব প্রভাব কতটা পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবনে।

শুভেন্দুর দাবি, এই সরকার শুধু রাজনৈতিক পরিবর্তনের জন্য আসেনি; প্রশাসনিক কাঠামো, কাজের ধরন এবং শাসনের সংস্কৃতিতেও পরিবর্তন আনার লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছে। সেই পরিবর্তনের প্রকৃত মূল্যায়ন আগামী অর্থবর্ষের শেষে আরও স্পষ্টভাবে করা সম্ভব হবে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর