তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে রাজনৈতিক অস্বস্তি আরও বাড়ল। দল থেকে বহিষ্কৃত দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহার সঙ্গে কলকাতার এমএলএ হস্টেলে একাধিক বিধায়কের বৈঠকের খবর ঘিরে নতুন করে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের প্রশ্ন, শাসকদলের অন্দরে কি ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে বিদ্রোহী শিবির?
সূত্রের দাবি, সোমবার সন্ধ্যায় এমএলএ হস্টেলে ঋতব্রত ও সন্দীপনের সঙ্গে কয়েকজন বর্তমান তৃণমূল বিধায়কের বৈঠক হয়েছে। সেখানে মালদহ ও মুর্শিদাবাদ জেলার কয়েকজন বিধায়কের পাশাপাশি জাভেদ খান ও শিউলি সাহাও উপস্থিত ছিলেন বলে খবর। যদিও এই বৈঠক নিয়ে কোনও পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত মন্তব্য করেনি।
তবে জল্পনা আরও উসকে দিয়েছেন শিউলি সাহা। এমএলএ হস্টেল থেকে বেরিয়ে তিনি বলেন, তিনি নিজের ঘর দেখতে এসেছিলেন। সেখানে ঋতব্রত ও সন্দীপনকে দেখে কিছুক্ষণ বসে চা খান। একইসঙ্গে তাঁর মন্তব্য, “বিধায়ক বহিষ্কৃত নন, দল থেকে বহিষ্কৃত”, রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক সূত্রে খবর, বহিষ্কারের পর থেকেই ঋতব্রত ও সন্দীপনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন একাধিক অসন্তুষ্ট বিধায়ক। এমনও জল্পনা রয়েছে যে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বিধানসভার স্পিকারের কাছে একটি চিঠি জমা পড়তে পারে। সেখানে নিজেদের ‘প্রকৃত তৃণমূল’ দাবি করে নতুন অবস্থান স্পষ্ট করার চেষ্টা হতে পারে বলেও রাজনৈতিক মহলের একাংশের অনুমান।
এই পরিস্থিতির কেন্দ্রে রয়েছে সাম্প্রতিক সই জালিয়াতি বিতর্ক। সেই ইস্যুতে দলীয় অবস্থানের বিরোধিতা করায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাকে বহিষ্কার করে তৃণমূল কংগ্রেস। এরপর থেকেই প্রকাশ্যে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ তুলছেন ঋতব্রত।
সোমবারও তিনি দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বলেন, উলুবেড়িয়া পুরসভায় বিপুল সংখ্যক আবাসন বরাদ্দে অনিয়ম হয়েছে এবং একাধিক প্রকল্পে নিয়ম মেনে টেন্ডার ডাকা হয়নি। তাঁর দাবি, সরকারে থাকার সময় নানা কারণে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে পারেননি। এখন তিনি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তদন্তের দাবি জানাবেন।
এদিকে রাজনৈতিক মহলে আরও একটি জল্পনা ঘুরছে—তৃণমূলের একাংশ বিধায়ক দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে দূরত্ব বাড়াচ্ছেন। সাম্প্রতিক কিছু দলীয় বৈঠকে বহু বিধায়কের অনুপস্থিতি নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও দলীয় নেতৃত্বের তরফে এই ধরনের জল্পনাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।
তবে এমএলএ হস্টেলের বৈঠক এবং বহিষ্কৃত বিধায়কদের সক্রিয় রাজনৈতিক তৎপরতা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ নিয়ে। আগামী কয়েক দিনে স্পিকারের কাছে কোনও চিঠি জমা পড়ে কি না এবং অসন্তুষ্ট বিধায়কদের অবস্থান কী হয়, তার উপরই অনেকটাই নির্ভর করবে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরবর্তী অধ্যায়।



