পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে এখন একটাই প্রশ্ন—তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে কি বড়সড় ভাঙনের সূচনা হতে চলেছে? দল থেকে বহিষ্কৃত দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাকে কেন্দ্র করে যে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে মঙ্গলবার সকাল থেকেই জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।
সূত্রের দাবি, বহিষ্কারের পর থেকেই একাধিক তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত ও সন্দীপনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। এমএলএ হস্টেলে সাম্প্রতিক বৈঠক এবং একাধিক রাজনৈতিক আলোচনার পর এখন নজর বিধানসভার দিকে। প্রশ্ন উঠছে, আজই কি স্পিকারের কাছে কোনও গুরুত্বপূর্ণ চিঠি জমা পড়তে চলেছে?


রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, দলত্যাগ বিরোধী আইনের নির্দিষ্ট বিধান এড়াতে গেলে বিধায়ক সংখ্যার একটি নির্দিষ্ট সমর্থন প্রয়োজন। সেই কারণেই সংখ্যার অঙ্ক এখন এই রাজনৈতিক লড়াইয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। বহিষ্কারের পর তৃণমূলের বিধায়ক সংখ্যা কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে নতুন সমীকরণ নিয়ে আলোচনা আরও তীব্র হয়েছে।
বিধানসভা সূত্রে যদিও কোনও সরকারি তথ্য সামনে আসেনি, তবে রাজনৈতিক অন্দরে আলোচনা চলছে যে, অসন্তুষ্ট বিধায়কদের একটি অংশ বিকল্প অবস্থান নেওয়ার বিষয়ে ভাবনাচিন্তা করছেন। বিশেষ করে মালদা ও মুর্শিদাবাদ জেলার কয়েকজন বিধায়কের নাম এই জল্পনায় বারবার উঠে আসছে।
এমএলএ হস্টেলে ঋতব্রত-সন্দীপনের সঙ্গে একাধিক বিধায়কের বৈঠকের খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই জল্পনা আরও বেড়েছে। যদিও সংশ্লিষ্ট নেতাদের অনেকেই প্রকাশ্যে কোনও অবস্থান স্পষ্ট করেননি। ফলে প্রকৃত সমর্থনের সংখ্যা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।


অন্যদিকে, নির্বাচনে হতাশাজনক ফলাফলের পর সংগঠনকে পুনরুজ্জীবিত করতে সক্রিয় হয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলীয় কর্মসূচি ও রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে সংগঠনকে চাঙ্গা করার চেষ্টা চলছে। এই পরিস্থিতিতে বিধায়কদের সম্ভাব্য অবস্থান পরিবর্তনের খবর দলীয় নেতৃত্বের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ ইতিমধ্যেই মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে বাংলার বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা টানতে শুরু করেছেন। যদিও বাস্তবে সেই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হবে কি না, তা নির্ভর করবে আগামী কয়েক দিনের রাজনৈতিক পদক্ষেপের উপর।
এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, বিধানসভার স্পিকারের কাছে আদৌ কোনও চিঠি জমা পড়ে কি না এবং যদি পড়ে, তবে তার সঙ্গে কতজন বিধায়কের সমর্থন থাকে। সেই উত্তরই আগামী দিনের রাজ্য রাজনীতির নতুন সমীকরণ নির্ধারণ করতে পারে।
তৃণমূলের অন্দরে অসন্তোষের এই জল্পনা কতটা বাস্তব এবং কতটা রাজনৈতিক চাপ তৈরির কৌশল, তা স্পষ্ট হবে খুব শীঘ্রই। তবে রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে যে নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



