‘তৃণমূলকে ব্যান করা উচিত’, সই বিতর্কে বিস্ফোরক দিলীপ ঘোষের আক্রমণ

সই জালিয়াতি বিতর্কের আবহে তৃণমূল কংগ্রেসকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন দিলীপ ঘোষ। দলকে নিষিদ্ধ করার দাবিও তুললেন বিজেপি নেতা।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বিরোধী দলনেতা নির্বাচন ঘিরে সই জালিয়াতি বিতর্ক যখন রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে, তখন তৃণমূল কংগ্রেসকে নিশানা করে কড়া মন্তব্য করলেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। দুর্নীতি এবং সাম্প্রতিক বিতর্কের প্রসঙ্গ তুলে তিনি দাবি করেন, তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তাঁর বক্তব্য ঘিরে নতুন রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে।

এক সাংবাদিক বৈঠকে সই জালিয়াতির অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে দিলীপ ঘোষ বলেন, দলের ভিতরেই এখন অস্থিরতা স্পষ্ট। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম ও বিতর্কে জড়িয়ে পড়ার ফলই বর্তমানে ভোগ করতে হচ্ছে তৃণমূলকে। সেই প্রসঙ্গেই তিনি দলটিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন।

দিলীপ ঘোষের অভিযোগ, দুর্নীতির একাধিক ঘটনায় তৃণমূলের নাম জড়িয়েছে এবং সেই কারণেই সাধারণ মানুষ দলটির উপর থেকে আস্থা হারিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, যে ধরনের অভিযোগ সামনে আসছে, তা গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের ভাবমূর্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

শুধু দল নয়, তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়েও কটাক্ষ করেন বিজেপি নেতা। তাঁর বক্তব্য, দলের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। একটি গল্পের উদাহরণ টেনে তিনি বোঝানোর চেষ্টা করেন যে, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংস্কৃতির ফলই এখন প্রকাশ্যে আসছে।

এদিকে শনিবার সোনারপুরে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর ডিম নিক্ষেপের ঘটনা নিয়েও প্রতিক্রিয়া দেন দিলীপ ঘোষ। বিষয়টি নিয়ে তিনি ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেন, যা নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

প্রসঙ্গত, বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিধানসভায় সই জালিয়াতির অভিযোগ সামনে আসার পর থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক আবহ উত্তপ্ত। এই ইস্যুতে তৃণমূল ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে চাপানউতোর ক্রমশ বাড়ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাবলির জেরে রাজ্যের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হতে পারে। বিশেষ করে বিধানসভা এবং দলীয় সংগঠনকে ঘিরে ওঠা বিতর্ক আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্যকে ঘিরে তৃণমূলের তরফে কী প্রতিক্রিয়া আসে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের। কারণ, সই বিতর্কের আবহে প্রতিটি রাজনৈতিক মন্তব্যই নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন