রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের পর নতুন করে বিতর্কে সাংস্কৃতিক জগত। সরকারি অনুষ্ঠানে গান গাওয়ার সুযোগ পেতে কাটমানি চাওয়া হয়েছিল বলে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন সঙ্গীতশিল্পী ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘জনতার দরবার’-এ হাজির হয়ে তিনি এই অভিযোগ জানান। অভিযোগের তির গিয়েছে তৃণমূল ঘনিষ্ঠ গায়ক ও প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের দিকে।
মঙ্গলবার সল্টলেকে বিজেপির রাজ্য দফতরে আয়োজিত জনতার দরবারে উপস্থিত হয়ে ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, পূর্বতন সরকারের আমলে সরকারি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হতে হয়েছে তাঁকে। তাঁর অভিযোগ, নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর বাইরে থাকায় নিয়মিতভাবে সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে হয়েছে।


সঙ্গীতশিল্পীর বক্তব্য, বিদেশে এবং বেসরকারি অনুষ্ঠানে কাজের সুযোগ থাকায় জীবিকা নির্বাহে সমস্যা হয়নি। কিন্তু সরকারি মঞ্চে পারফর্ম করার সুযোগ এলে বিভিন্ন ধরনের বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে আর্থিক দাবি বা ‘কাটমানি’র চাপও ছিল বলে অভিযোগ তাঁর।
ঋদ্ধির আরও দাবি, সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রের সুযোগ-সুবিধা একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। সেই কারণেই অনেক যোগ্য শিল্পী প্রাপ্য সম্মান ও সুযোগ পাননি বলে তিনি মনে করেন। একইসঙ্গে তিনি হুমকি ফোন পাওয়ার অভিযোগও তুলেছেন।
তবে সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন ইন্দ্রনীল সেন। তাঁর বক্তব্য, ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির জন্য ভিত্তিহীন অভিযোগ করা হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোনও শিল্পীর কাছ থেকে কখনও অর্থ তো দূরের কথা, সামান্য উপহারও গ্রহণ করেননি।


ইন্দ্রনীল সেন আরও বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হলে প্রশাসন যে ব্যবস্থা নেবে, তা তিনি মেনে নেবেন। পাশাপাশি হুমকি ফোনের অভিযোগ প্রসঙ্গে তাঁর দাবি, গত আট-নয় বছর ধরে ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর কোনও যোগাযোগ নেই। এমনকি তাঁর ফোন নম্বরও তাঁর কাছে নেই।
এদিকে জনতার দরবারে ঋদ্ধির উপস্থিতি নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন অভিনেত্রী ও বিজেপি নেত্রী রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ও। তিনি বলেন, একজন প্রতিষ্ঠিত শিল্পীকে অভিযোগ জানাতে সরাসরি প্রশাসনের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে, যা সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের জন্য দুর্ভাগ্যজনক। অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া উচিত বলেও মত তাঁর।
অভিযোগ ও পালটা অভিযোগের এই পর্বে সাংস্কৃতিক মহলে নতুন বিতর্কের সূচনা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা কতটা এবং প্রশাসন এ বিষয়ে কোনও তদন্ত শুরু করে কি না, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহলের।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



