সোনার বাজারে ফের নজরকাড়া নড়াচড়া। আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামা, ডলারের দামের পরিবর্তন এবং বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তার প্রভাবে দেশের বাজারেও বদলেছে সোনার দর। ফলে গয়না কেনা কিংবা বিনিয়োগের পরিকল্পনা থাকা ক্রেতাদের মধ্যে আজকের সোনার দাম নিয়ে কৌতূহল তুঙ্গে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সোনার দাম কখনও স্থির থাকে না। আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা-জোগান, মার্কিন ডলারের শক্তি, আমদানি শুল্ক, কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলির সোনা কেনাবেচা এবং ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি—এই সমস্ত বিষয় সোনার দামের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।
আজকের বাজারদর অনুযায়ী, ২২ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি গ্রাম ১৪,৭৫০ টাকা। অন্যদিকে ১৮ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি গ্রাম ১২,১১০ টাকা। পাশাপাশি ১ কেজি রুপোর দাম দাঁড়িয়েছে ২,৬৩,৫৯২ টাকায়। তবে এই মূল্যের সঙ্গে অতিরিক্ত ৩ শতাংশ GST যোগ হবে, যা চূড়ান্ত ক্রয়মূল্য আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
অনেকেই শুধুমাত্র বড় গয়না কেনার সময় সোনার দর দেখেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, ১ গ্রামের দাম জানা থাকলে যে কোনও গয়নার সম্ভাব্য খরচ সহজে হিসাব করা যায়। আংটি, চেন, বালা কিংবা বিয়ের গয়না—সব ক্ষেত্রেই প্রতি গ্রামের মূল্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তবে সোনা কেনার সময় শুধু ধাতুর দাম দেখলেই চলবে না। গয়নার ডিজাইন ও কারুকাজ অনুযায়ী মেকিং চার্জ আলাদা হয়। অনেক ক্ষেত্রে এই চার্জ মোট বিলের বড় অংশ হয়ে দাঁড়ায়। তার সঙ্গে যুক্ত হয় GST, ফলে দোকানে গিয়ে চূড়ান্ত মূল্য অনেকটাই বেড়ে যেতে পারে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, স্বল্পমেয়াদে সোনার দামে ওঠানামা থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি এখনও অন্যতম জনপ্রিয় বিনিয়োগ মাধ্যম। তাই এককালীন বড় অঙ্কের কেনাকাটার পরিবর্তে ধাপে ধাপে বিনিয়োগ করলে ঝুঁকি কিছুটা কমানো সম্ভব।
সোনা কেনার আগে অবশ্যই BIS Hallmark যাচাই করা, বৈধ বিল সংগ্রহ করা এবং বিভিন্ন জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানের মেকিং চার্জ তুলনা করা জরুরি। শুধু কম দাম নয়, সোনার বিশুদ্ধতার দিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
গত কয়েক বছরে ধারাবাহিকভাবে সোনার দাম বৃদ্ধির ফলে অনেক বিনিয়োগকারী এখন অন্যান্য সম্পদের পাশাপাশি সোনাকেও দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়ের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে দেখছেন। তাই নতুন বিনিয়োগ হোক বা গয়না কেনা—সর্বশেষ বাজারদর জেনে সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।



