বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শেখ হাসিনার ইস্তফা দেবার দিনেই প্রায় ৬ বছর পর জেল থেকে মুক্তি পান বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া। তিনি বাংলাদেশের দু’বারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। কিন্তু, ২০১৮ সালে দুর্নীতির অভিযোগে তাঁকে জেলে যেতে হয়। যদিও সেটাকে শেখ হাসিনার ‘চক্রান্ত’ বলেই দাবি করে বিএনপি। বুধবার বাংলাদেশের নয়াপল্টনে একটি বিশাল সমাবেশ করে বিএনপি। সেখানেই প্রচারিত হল খালেদা জিয়ার একটি ভিডিয়ো বার্তা।
দীর্ঘদিন জেলবন্দি থাকায় খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা খুব একটা ভালো নেই। জেল থেকে বেরিয়েও এই মুহূর্তে তিনি রয়েছেন হাসপাতালে। আর হাসপাতালের বেডে বসেই তিনি জাতির উদ্দেশে একটি ভাষণ দেন। সেখানে তিনি বলেন, “ধ্বংস, প্রতিশোধ, প্রতিহিংসা নয়। ভালোবাসা ও শান্তির সমাজ গড়ে তুলতে হবে। শত শত তরুণেরা যে স্বপ্ন নিয়ে বুকের রক্ত ঢেলে দিয়েছে, সে স্বপ্ন বাস্তবায়নে মেধা, যোগ্যতা, জ্ঞানভিত্তিক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।”
সঙ্গে খালেদা আরও বলেছেন, “দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর আপনাদের সামনে কথা বলতে পারার জন্য আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ। আমার কারাবন্দি অবস্থায় আপনারা আমার কারামুক্তি ও রোগমুক্তির জন্য সংগ্রাম করেছেন, দোয়া করেছেন, সেজন্য আমি আপনাদের সকলকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। দীর্ঘ আন্দোলন, সংগ্রাম ও ত্যাগের মধ্য দিয়ে আমরা ফ্যাসিবাদী অবৈধ সরকারের কাছ থেকে মুক্তি পেয়েছি। আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাতে চাই, আমাদের বীর সন্তানদের যারা মরণপণ সংগ্রাম করে এই অসম্ভবকে সম্ভব করেছে। এ বিজয় আমাদের সামনে নতুন সম্ভবনা নিয়ে এসেছে।”
১৯৯১-১৯৯৬ সাল এবং ২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত দু’দফায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন খালেদা জিয়া। তিনিই বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়াই বাংলাদেশের দুই যুযুধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ। খালেদার মুক্তির পর আজ অনেক বছর পর ঢাকায় নিজেদের পার্টি অফিস খুলল বিএনপি। রীতিমতো হাজার হাজার মানুষকে সামনে রেখে শক্তি প্রদর্শন করল বিএনপি। অন্যদিকে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হয়েছেন নোবেলজয়ী মহম্মদ ইউনূস। বৃহস্পতিবার তিনি প্যারিস থেকে দেশে ফিরবেন, সেদ্দিনই গড়া হবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।



