চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মধ্যে যারা আগে সরকারি চাকরিতে ছিলেন, তাদের পুরনো পদে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে রাজ্য প্রশাসন। সুপ্রিম কোর্টের রায় কার্যকর করে এখন পর্যন্ত ২০ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা পুনরায় তাদের পূর্ববর্তী সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়ার সবুজ সংকেত পেয়েছেন। এই খবর রাজ্যের হাজারো চাকরিহারা শিক্ষকের মনে নতুন আশা জাগিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৪ সালের ৩ এপ্রিল, যখন সুপ্রিম কোর্ট ২০১৬ সালের এসএসসি প্যানেল পুরোপুরি বাতিল করে দেয়। এর ফলে প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী চাকরি হারান। আদালত তখন নির্দেশ দেয়, যারা আগে অন্য কোনও সরকারি দফতরে চাকরি করতেন এবং পরে স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে শিক্ষক হয়েছেন, তারা পুরনো পদে ফেরার জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবেদন পাওয়ার তিন মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট দফতরকে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করে তাদের পদ ফিরিয়ে দিতে হবে।


সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ ছিল—পুনরায় যোগ দেওয়াকে কোনওভাবেই ব্রেক অব সার্ভিস ধরা হবে না। প্রয়োজনে সুপারনিউমেরারি পোস্ট তৈরি করে হলেও চাকরি ফেরাতে হবে। রাজ্য প্রশাসন সেই নির্দেশ মান্য করেই ফের নিয়োগ শুরু করেছে।
জানা গেছে, এই ২০ জন চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষিকার মধ্যে পাঁচজন স্বরাষ্ট্র দফতরে কর্মরত ছিলেন। এছাড়া বিদ্যুৎ, বিপর্যয় মোকাবিলা সহ একাধিক দফতরের চাকরি ছেড়ে তারা শিক্ষকতা শুরু করেছিলেন। কিন্তু এসএসসি দুর্নীতির মামলায় প্যানেল বাতিল হওয়ায় তারা সবাই চাকরি হারান।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, পুরনো চাকরিতে পুনর্বহালের জন্য ইতিমধ্যেই প্রায় সাড়ে চার হাজার আবেদন জমা পড়েছে। প্রতিটি আবেদন খুঁটিয়ে দেখে নিয়োগপত্র পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। রাজ্যের বিভিন্ন দফতরের মানবসম্পদ শাখা এখন এই নিয়োগ কার্যক্রমে ব্যস্ত।


এদিকে, নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়াও শুরু করেছে স্কুল সার্ভিস কমিশন। কমিশন জানিয়েছে, নবম-দশম শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা হবে ৭ সেপ্টেম্বর এবং একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষা হবে ১৪ সেপ্টেম্বর। এই পরীক্ষাগুলি হবে সম্পূর্ণ নতুন বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, যাতে স্বচ্ছতা ও ন্যায় বজায় থাকে।
শিক্ষক সমাজের একাংশের মতে, সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশ শুধু চাকরি ফেরানোর প্রক্রিয়াকেই এগিয়ে দেয়নি, বরং রাজ্যে সরকারি নিয়োগ ব্যবস্থার প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। তবে এখনও যারা অন্য কোনও সরকারি চাকরিতে ছিলেন না, তাদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে।
রাজনৈতিক মহলেও এই ঘটনা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। বিরোধীরা অভিযোগ তুলেছে, রাজ্য সরকার দেরিতে পদক্ষেপ নিচ্ছে, ফলে বহু চাকরিহারা শিক্ষক আর্থিক ও মানসিক চাপে ভুগছেন। অন্যদিকে, সরকারের দাবি—প্রক্রিয়াটি জটিল এবং আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকেই সব কাজ সম্পন্ন করতে হচ্ছে।
চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষিকা পুনর্বহাল কার্যক্রম এখন রাজ্যের শিক্ষা ও কর্মসংস্থান ব্যবস্থায় এক বড় ইস্যু। আগামী কয়েক মাসে কতজন তাদের পুরনো পদে ফিরতে পারবেন, তার উপর অনেকটাই নির্ভর করছে রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক পরিবেশ।







