দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। একাদশ–দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নতুন গতি এল রাজ্যে। মেধাতালিকা প্রকাশের প্রায় এক মাস পর মঙ্গলবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হল কাউন্সেলিং এবং সফল প্রার্থীদের হাতে সুপারিশপত্র দেওয়ার প্রক্রিয়া। স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC)-এর এই পদক্ষেপে শিক্ষক নিয়োগের বাস্তব প্রক্রিয়া এবার চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছল।
এসএসসি সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যের বিভিন্ন স্কুলে বিষয়ভিত্তিক ও জাতিভিত্তিক শূন্যপদের তালিকা হাতে পাওয়ার পরই কাউন্সেলিংয়ের সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। সেই অনুযায়ী মঙ্গলবার থেকেই প্রথম পর্যায়ের কাউন্সেলিং শুরু হয়েছে।
প্রথম দফায় কারা পাচ্ছেন সুপারিশপত্র?
কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে মোট ৭টি বিষয়ের কাউন্সেলিং অনুষ্ঠিত হচ্ছে মঙ্গলবার ও বুধবার। এই দুই দিনে মোট ১৭২ জন সফল প্রার্থী সুপারিশপত্র পাবেন বলে জানা গেছে।
কবে মিলবে নিয়োগপত্র?
সূত্রের খবর, মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকেই ধাপে ধাপে নিয়োগপত্র প্রদান শুরু হবে। অর্থাৎ কাউন্সেলিং শেষ হওয়ার পর দ্রুত স্কুলে যোগদানের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
কত শূন্যপদ, কত প্রার্থী?
ইতিমধ্যেই এসএসসি চূড়ান্ত মেধাতালিকা ও ওয়েটিং লিস্ট মিলিয়ে প্রায় ১৮ হাজার প্রার্থীর নাম প্রকাশ করেছে।
রাজ্যে মোট শূন্যপদের সংখ্যা ১২,৪৪৫টি।
ওপেন কাউন্সেলিংয়ে নতুন সুযোগ
মধ্যশিক্ষা পর্ষদের নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ী এবার কাউন্সেলিং অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল—একাদশ–দ্বাদশ ও নবম–দশমের বিষয়ভিত্তিক পোস্টগুলিতে আগাম নির্দিষ্ট সংরক্ষণ না রেখে ‘ওপেন কাউন্সেলিং’ পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। ফলে বিভিন্ন সামাজিক শ্রেণির প্রার্থীরা মেধার ভিত্তিতে স্কুল বাছাইয়ের সুযোগ পাচ্ছেন।
কীভাবে হবে স্কুল বাছাই?
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, উচ্চ র্যাঙ্কধারী প্রার্থীরা স্কুল নির্বাচনে বেশি বিকল্প পাবেন। এবার থেকে রাজ্যস্তরের নিয়োগ কাউন্সেলিং হবে কম্বাইন্ড মেরিট লিস্ট (CML)-এর ভিত্তিতে, যা পুরো প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে বলে মনে করছে কমিশন।
দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক ও আইনি জটিলতার পর এই পদক্ষেপ শিক্ষা ব্যবস্থায় স্থিতি ফেরানোর দিকেই বড় ইঙ্গিত বলে মনে করছেন শিক্ষা মহলের একাংশ।



