এক ঘণ্টা বাকি থাকতেই ইতিহাসের দরজায় কড়া নাড়ল পশ্চিমবঙ্গ। প্রথম দফার ভোটে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোট পড়ল ৮৯.৯৩%—যা আগের সব রেকর্ড ছাপিয়ে দেশজুড়ে নতুন নজির গড়ার সম্ভাবনা জাগিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের শীর্ষ কর্তারাও এই ভোটপর্বকে তুলনামূলকভাবে “অনেক বেশি শান্তিপূর্ণ” বলে উল্লেখ করেছেন।
জেলাভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছে দক্ষিণ দিনাজপুরে—৯৩.১২ শতাংশ। অন্যদিকে তুলনামূলকভাবে কম ভোট পড়েছে কালিম্পঙে—৮১.৯৮ শতাংশ, যদিও সেটিও উচ্চমাত্রার অংশগ্রহণের ইঙ্গিত দেয়।


সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়—এ বার বিকেল ৫টার মধ্যেই ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের (৮৩.২%) এবং ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনের (৭৯.৮%) ভোটের হার ছাপিয়ে গিয়েছে। অর্থাৎ ভোট শেষ হওয়ার আগেই অতীতের সব পরিসংখ্যান পিছনে ফেলে দিয়েছে এই দফা।
দেশের প্রেক্ষাপটে এই হার আরও গুরুত্বপূর্ণ। এতদিন ভোটদানের হারে এগিয়ে ছিল অসম (৮৫.৩৮%) এবং পুদুচেরি (৮৯.৯৩%)। পশ্চিমবঙ্গের প্রথম দফার ভোট সেই সীমা স্পর্শ করে ফেলেছে—ফলে চূড়ান্ত হিসাব প্রকাশিত হলে সর্বভারতীয় রেকর্ড ভাঙার সম্ভাবনা প্রবল।
রাজ্যের নিজের ইতিহাসেও এটি বড় মাইলফলক হতে পারে। এতদিন পশ্চিমবঙ্গে সর্বোচ্চ ভোট পড়েছিল ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে—৮৪.৩৩ শতাংশ। এ বার সেই রেকর্ড অনেকটাই পেছনে ফেলে দিয়েছে প্রথম দফার ভোটই।


বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিপুল ভোটদান শুধু নির্বাচনী উত্তেজনাই নয়, বরং রাজনৈতিক মেরুকরণ, উচ্চ প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং ভোটারদের সচেতনতার প্রতিফলন। দ্বিতীয় দফাতেও যদি একই প্রবণতা বজায় থাকে, তবে বাংলার এই নির্বাচন দেশজুড়ে এক নতুন মানদণ্ড স্থাপন করতে পারে।







