১ জুলাই থেকে পশ্চিমবঙ্গে (West Bengal) চালু হচ্ছে কেন্দ্রের নতুন গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্প ‘ভিবি-জি রাম-জি’ (Viksit Bharat Guarantee for Rozgar and Aajeevika Mission-Grameen বা VB-G RAM-G)। মনরেগা (MGNREGA)-র পরিবর্তে চালু হওয়া এই প্রকল্পে ২.৫৬ কোটি জব কার্ডধারী উপকৃত হবেন বলে জানিয়েছে রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তর।
রাজ্যে গ্রামীণ কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে বুধবার থেকেই। মঙ্গলবার সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তর জানায়, দেশের অন্যান্য রাজ্যের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গেও আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হচ্ছে ‘জি রাম জি’ প্রকল্প। কেন্দ্রীয় সরকারের নতুন আইন কার্যকর হওয়ার পর এই প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামীণ কর্মসংস্থানের কাঠামোয় একাধিক পরিবর্তন আসছে।
কী এই ‘জি রাম জি’ প্রকল্প?
কেন্দ্রীয় সরকার মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা আইন (Mahatma Gandhi National Rural Employment Guarantee Act বা MGNREGA)-এর পরিবর্তে Viksit Bharat Guarantee for Rozgar and Aajeevika Mission-Grameen (VB-G RAM-G) চালু করেছে। নতুন আইনে বছরে কর্মসংস্থানের সুযোগ ১০০ দিন থেকে বাড়িয়ে ১২৫ দিন করার প্রস্তাব কার্যকর করা হয়েছে।
এছাড়া প্রকল্পের অর্থায়নের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন এসেছে। আগে যেখানে প্রকল্পের ব্যয়ের ৯০ শতাংশ বহন করত কেন্দ্র, এখন সেই অংশ কমিয়ে ৬০ শতাংশ করা হয়েছে। বাকি ৪০ শতাংশ ব্যয় করবে রাজ্য সরকার।
কারা পাবেন সুবিধা?
পঞ্চায়েত দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ২.৫৬ কোটি জব কার্ডধারী এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন। গ্রামীণ এলাকার কর্মসংস্থান, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং জীবিকা সুরক্ষার লক্ষ্যে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে।
তবে রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, যাঁদের নাম বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR)-এর চূড়ান্ত তালিকায় নেই, তাঁরা আপাতত কেন্দ্রীয় সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না। সংশ্লিষ্ট নথি ও পরিচয় যাচাই বাধ্যতামূলক বলেও জানানো হয়েছে।
কত টাকা খরচ হবে?
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, চলতি অর্থবর্ষে এই প্রকল্পে মোট ব্যয় হবে ১৪ হাজার কোটিরও বেশি।
এর মধ্যে—
- কেন্দ্রীয় সরকারের বরাদ্দ: ৮,৫০৮ কোটি টাকা
- রাজ্য সরকারের অংশ: ৫,৬৭২ কোটি টাকা
মোট প্রকল্প ব্যয়ের প্রায় ৬০ শতাংশ শ্রমিকদের মজুরি বাবদ খরচ হবে। বাকি অর্থ ব্যবহার করা হবে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ ও পরিকাঠামো তৈরিতে।
কী বলল রাজ্য সরকার?
রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন, নতুন প্রকল্প চালুর জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রস্তুতি সম্পূর্ণ হয়েছে। তিনি আরও বলেন, মনরেগার বকেয়া অর্থ নিয়েও কেন্দ্রের কাছ থেকে ইতিবাচক বার্তা মিলেছে।
অন্যদিকে, এই প্রকল্প চালুর সময় থেকেই কেন্দ্র ও রাজ্যের আর্থিক অংশীদারিত্ব, প্রকল্প বাস্তবায়নের নিয়ম এবং উপভোক্তাদের যোগ্যতা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে মনরেগার পরিবর্তে নতুন প্রকল্প চালুর সিদ্ধান্ত সংসদে বিতর্কের বিষয় হয়েছিল।
১ জুলাই থেকে প্রকল্প কার্যকর হওয়ার পর বাস্তবে গ্রামীণ কর্মসংস্থানে কতটা পরিবর্তন আসে এবং কর্মদিবস বৃদ্ধির সুবিধা কত দ্রুত সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।






