হুল দিবস (Hul Diwas) উপলক্ষে বাঁকুড়া (Bankura)-র সরকারি অনুষ্ঠানে আদিবাসী সম্প্রদায়ের উন্নয়নে একগুচ্ছ ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। জয় জোহার ভাতা বৃদ্ধি, আদিবাসী ছাত্রদের খাদ্যভাতা বাড়ানো, পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নে ₹১২০০ কোটি বরাদ্দ-সহ একাধিক পদক্ষেপের কথা জানান তিনি।
মঙ্গলবার বাঁকুড়ায় হুল দিবসের সরকারি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে আদিবাসী সমাজের উন্নয়ন, শিক্ষা, কৃষি এবং সামাজিক সুরক্ষা নিয়ে একাধিক ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একইসঙ্গে পূর্ববর্তী সরকারের নীতিরও সমালোচনা করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিজেপি সরকারের আমলেই প্রথমবার সরকারি উদ্যোগে হুল দিবস পালন করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে আদিবাসী সমাজের জল, জমি ও অধিকার রক্ষার যে লড়াই, তা সম্মান ও স্বীকৃতি পাওয়ার দাবি রাখে। তিনি আরও বলেন, আদিবাসী সম্প্রদায়কে উন্নয়নের মূল স্রোতে যুক্ত করাই সরকারের লক্ষ্য এবং সেই উদ্দেশ্যেই মন্ত্রিসভায় একাধিক আদিবাসী প্রতিনিধিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠান থেকে কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বয়ে চলা বিভিন্ন প্রকল্পের কথাও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্প ইতিমধ্যেই রাজ্যে চালু করা হয়েছে এবং আগামী অগস্ট মাস থেকে সাধারণ মানুষ তার সুবিধা পেতে শুরু করবেন। কৃষি ও উদ্যানপালনের মাধ্যমে আদিবাসী এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়নেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
আর্থিক সহায়তার ক্ষেত্রে জয় জোহার ভাতার পরিমাণ আরও ৫০০ টাকা বৃদ্ধি করার ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি আদিবাসী উন্নয়নের জন্য ৩৫০ কোটি টাকার বিশেষ প্যাকেজের কথাও জানান তিনি। আদিবাসী ছাত্রছাত্রীদের জন্য হোস্টেলে খাদ্যভাতা বাড়িয়ে মাসিক ৩,৩০০ টাকা করার সিদ্ধান্তও ঘোষণা করা হয়।
পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়ন নিয়েও বড় ঘোষণা করেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, পূর্ববর্তী সরকার পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন দপ্তরের জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ দেয়নি। এবার সেই খাতে ১,২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এই অর্থ দিয়ে জঙ্গলমহল (Jangalmahal)-এর ৭২টি ব্লকে পরিকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অন্যান্য উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানান তিনি।
বক্তৃতায় সংরক্ষণ ও জাতিগত শংসাপত্র নিয়েও কড়া অবস্থান স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, অতীতে ভুয়ো তফসিলি জাতি ও তফসিলি জনজাতি শংসাপত্র দেওয়া হয়েছে। এই বিষয়ে তদন্ত চলছে এবং অনিয়মে যুক্ত ব্যক্তি, শংসাপত্র প্রদানকারী ও সুবিধাভোগী— উভয়ের বিরুদ্ধেই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।
এছাড়া তিনি অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে আদিবাসী এলাকায় একলব্য মডেল আবাসিক বিদ্যালয় (Eklavya Model Residential School) তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় জমি দেওয়া হয়নি এবং রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু-কেও অসম্মান করা হয়েছিল। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের কোনও প্রতিক্রিয়া এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
হুল দিবসের মঞ্চ থেকে দেওয়া এই ঘোষণাগুলি আগামী দিনে আদিবাসী সমাজের উন্নয়নে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা বাস্তবায়নের গতির উপর নির্ভর করবে। তবে সরকারি প্রকল্প, ভাতা বৃদ্ধি এবং পশ্চিমাঞ্চলের জন্য বিশেষ আর্থিক বরাদ্দকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে।






