‘ডিজে’ মন্তব্য সংক্রান্ত মামলায় তৃণমূল কংগ্রেসের (Trinamool Congress) নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহ নিয়ে আপাতত কোনও স্বস্তি মিলল না। নিম্ন আদালতের নির্দেশে স্থগিতাদেশ দিতে রাজি হল না কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। একই সঙ্গে মামলাটি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠিয়ে উপযুক্ত বেঞ্চ নির্ধারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহ সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ (Justice Tirthankar Ghosh) জানান, একই এফআইআর (FIR) ঘিরে হাইকোর্টের দুটি পৃথক বেঞ্চে সমান্তরালভাবে শুনানি হওয়া উচিত নয়। সেই কারণেই মামলাটি ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে একই বেঞ্চে সমস্ত সংশ্লিষ্ট আবেদন শুনানি করা যায়।
আদালতে শুনানির সময় বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ স্পষ্ট করেন, তদন্তের স্বার্থে কোন প্রমাণ প্রয়োজন, তা নির্ধারণ করা তদন্তকারী সংস্থার কাজ। আদালত সেই বিষয়ে নির্দেশ দিতে পারে না। কণ্ঠস্বরের নমুনা প্রয়োজন কি না, সেই সিদ্ধান্তও তদন্তকারী সংস্থাই নেবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এর ফলে নিম্ন আদালতের নির্দেশ আপাতত বহাল থাকল। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহের নির্দেশে হস্তক্ষেপ করেনি হাইকোর্ট। ফলে এই মুহূর্তে তাঁর আবেদন থেকে কোনও অন্তর্বর্তী স্বস্তি মেলেনি।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘ডিজে’ মন্তব্য সংক্রান্ত মামলায় আগামী ৮ জুলাই সকালে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহের প্রস্তুতি চলছে। বিধাননগর আদালত (Bidhannagar Court) থেকে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর তদন্তকারী সংস্থা সিআইডিকে (CID) আনুষ্ঠানিকভাবে দিনক্ষণ জানানো হবে। যদিও এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনও সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়নি।
এদিকে একই দিনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবন ঘিরেও নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। মঙ্গলবার তাঁর বাড়ির মূল ফটকে ভিউ কাটার (View Cutter) বসানোর কাজ শুরু হয়। এর ফলে বাইরে থেকে আর বাড়ির ভিতরের অংশ দেখা যাবে না। নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিশ্চিত করতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
এখন নজর প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে মামলাটির ভবিষ্যৎ শুনানির দিকে। একইসঙ্গে ৮ জুলাই নির্ধারিত কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহের প্রক্রিয়া নির্ধারিত সময়েই এগোয় কি না, তা নিয়েও রাজনৈতিক ও আইনি মহলে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।






