ভারতের (India) আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে বড় সিদ্ধান্ত নিল প্রতিরক্ষা মন্ত্রক (Ministry of Defence)। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ‘কুইক রিঅ্যাকশন সারফেস টু এয়ার মিসাইল’ (Quick Reaction Surface to Air Missile System বা QRSAM) কেনার প্রক্রিয়ায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্প দেশের বহুতল আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘ইন্টিগ্রেটেড এয়ার ডিফেন্স ওয়েপন্স সিস্টেম’ (Integrated Air Defence Weapons System বা IADWS)-কে আরও কার্যকর করে তুলবে।
ভারতের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিতে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার পথে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহের (Rajnath Singh) নেতৃত্বাধীন প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয় সংক্রান্ত কমিটি (Defence Acquisition Council বা DAC) দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত কিউআরএসএএম ব্যবস্থা কেনার জন্য প্রয়োজনীয় ‘অ্যাকসেপ্ট্যান্স অব নেসেসিটি’ (Acceptance of Necessity বা AoN)-এর অনুমোদন দিয়েছে। প্রতিরক্ষা সূত্রের মতে, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই এই চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই প্রকল্পের আওতায় প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (Defence Research and Development Organisation বা DRDO)-র প্রযুক্তিতে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করবে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ভারত ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড (Bharat Electronics Limited বা BEL)। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই ব্যবস্থা দ্রুত মোতায়েনযোগ্য এবং চলমান প্ল্যাটফর্ম থেকেও পরিচালনা করা সম্ভব।
কী করতে পারে কিউআরএসএএম?
কিউআরএসএএম এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে শত্রুপক্ষের ড্রোন, যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার কিংবা ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র দ্রুত শনাক্ত করে আকাশেই ধ্বংস করা যায়। ট্রাকে বহনযোগ্য হওয়ায় প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত অবস্থান পরিবর্তন করতে পারে এই ব্যবস্থা। ফলে শত্রুপক্ষের পাল্টা হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়াও তুলনামূলক কঠিন।
প্রতিরক্ষা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এই ব্যবস্থা প্রায় ৩০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধ এবং প্রায় ১০ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। দ্রুত প্রতিক্রিয়া এবং উচ্চ নির্ভুলতার কারণে এটি সেনাবাহিনীর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
কী এই ‘সুদর্শন চক্র’?
ভারতের নতুন বহুতল আকাশ প্রতিরক্ষা কাঠামো আইএডিডব্লিউএস (IADWS) মূলত তিনটি আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সমন্বয়ে গড়ে উঠছে।
প্রথম স্তরে রয়েছে কিউআরএসএএম, যা মাঝারি দূরত্বের আকাশপথে আসা হুমকি দ্রুত প্রতিহত করতে সক্ষম। দ্বিতীয় স্তরে রয়েছে অ্যাডভান্সড ভেরি শর্ট এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম (Very Short Range Air Defence System বা VSHORADS), যা স্বল্প দূরত্বে প্রবেশ করা লক্ষ্যবস্তুকে ধ্বংস করার জন্য তৈরি। আর তৃতীয় স্তরে রয়েছে ডাইরেক্ট এনার্জি ওয়েপন (Directed Energy Weapon বা DEW), যা লেজার প্রযুক্তির মাধ্যমে শত্রুপক্ষের ড্রোন বা অন্যান্য আকাশযানকে নিষ্ক্রিয় করার ক্ষমতা রাখে।
এই তিন স্তরের সমন্বয়ে তৈরি হওয়া নতুন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভারতের আকাশসীমাকে আরও সুরক্ষিত করবে বলে মনে করছে প্রতিরক্ষা মহল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আধুনিক যুদ্ধকৌশলের প্রয়োজনীয়তা মাথায় রেখেই দেশীয় প্রযুক্তিনির্ভর এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। কিউআরএসএএম প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ভারতের নিজস্ব প্রতিরক্ষা উৎপাদন ক্ষমতা যেমন আরও শক্তিশালী হবে, তেমনই আকাশপথে যে কোনও সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।






