নজরবন্দি ব্যুরো: ১০০ দিনের কাজ বদলে ১২৫ দিনের কর্মসংস্থানের গ্যারান্টি—কেন্দ্রের নতুন গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্প VB-G RAM G ঘিরে ছিল বড় প্রত্যাশা। কিন্তু প্রথম দিকের পরিসংখ্যানেই দেখা যাচ্ছে উল্টো ছবি। SBI Research-এর সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাই-আগস্টে নতুন প্রকল্পে তৈরি কর্মদিবস গত বছরের একই সময়ে MGNREGA-র তুলনায় প্রায় ৬০% কম হয়েছে।
১ জুলাই ২০২৬ থেকে MGNREGA-র বদলে চালু হয়েছে Viksit Bharat–Guarantee for Rozgar and Ajeevika Mission (Gramin) বা VB-G RAM G। নতুন ব্যবস্থায় গ্রামীণ পরিবারগুলির জন্য বছরে কর্মসংস্থানের আইনি গ্যারান্টি ১০০ দিন থেকে বাড়িয়ে ১২৫ দিন করা হয়েছে। কিন্তু বেশি দিনের গ্যারান্টি থাকলেও বাস্তবে কাজের সুযোগ কতটা তৈরি হচ্ছে, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলছে SBI Research-এর পরিসংখ্যান।
রিপোর্টের হিসাব বলছে, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে MGNREGA-র আওতায় দেশে ১৭.৬৫ কোটি কর্মদিবস তৈরি হয়েছিল। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে VB-G RAM G-তে সেই সংখ্যা নেমে হয়েছে ৮.৯৯ কোটি। অর্থাৎ প্রথম মাসেই কর্মদিবসের সংখ্যা প্রায় অর্ধেকে নেমেছে।
আগস্টের ছবিও স্বস্তিদায়ক নয়। ২০২৫ সালের আগস্টে ১২.১২ কোটি কর্মদিবস তৈরি হলেও ২০২৬ সালের ২০ আগস্ট পর্যন্ত নতুন প্রকল্পে তৈরি হয়েছে ২.৮৫ কোটি কর্মদিবস। জুলাই ও আগস্টের সংশ্লিষ্ট সময় মিলিয়ে SBI Research প্রায় ৬০.২% ঘাটতির কথা জানিয়েছে।
তবে এই পরিসংখ্যানকে চূড়ান্ত প্রবণতা হিসেবে দেখার ক্ষেত্রে সতর্ক করেছে SBI Research-ও। নতুন প্রকল্প চালুর সময় পুরনো কাজ স্থানান্তর, নতুন জব কার্ড যাচাই, সফটওয়্যার ব্যবস্থা চালু, মাস্টার রোল তৈরি এবং মজুরি প্রদানের মতো প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় দেরি হয়ে থাকতে পারে। ফলে প্রাথমিক মাসগুলির পরিসংখ্যানে ‘ট্রানজিশন ইফেক্ট’ থাকতে পারে।
এর পাশাপাশি নতুন ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। কৃষির বীজ বোনা ও ফসল কাটার ব্যস্ত মরশুমে রাজ্যগুলি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে মোট ৬০ দিন পর্যন্ত প্রকল্পের কাজ স্থগিত রাখতে পারে। SBI Research-এর মতে, এই বিধিও কর্মদিবস কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ হতে পারে।
এদিকে কম বৃষ্টির প্রভাবও গ্রামীণ কর্মসংস্থানে পড়তে পারে বলে রিপোর্টে ইঙ্গিত রয়েছে। ২১ আগস্ট পর্যন্ত দেশের সামগ্রিক বৃষ্টির ঘাটতি প্রায় ১৩% হলেও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কৃষিপ্রধান রাজ্যে ঘাটতি অনেক বেশি ছিল। বিহারে ৪১%, অন্ধ্রপ্রদেশে ৩৯%, পাঞ্জাবে ৩২% এবং কর্নাটকে ২২% ঘাটতির কথা SBI Research জানিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে কৃষিকাজে প্রত্যাশিত কর্মসংস্থান কমে গেলে গ্রামীণ শ্রমিকদের জন্য সরকারি কর্মসংস্থান প্রকল্পের গুরুত্ব আরও বাড়ে। কিন্তু নতুন প্রকল্পের প্রথম দফার তথ্য সেই জায়গাতেই উদ্বেগ তৈরি করছে—বিশেষত যেসব পরিবার কৃষির বাইরের সময়ে সরকারি প্রকল্পের কাজের উপর নির্ভর করে।
রাজ্যভিত্তিক ছবিতেও বড় পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। জুলাইয়ে জাতীয় প্রবণতার বিপরীতে তেলঙ্গানায় কর্মদিবস ২২৯% বেড়েছে, আর অন্ধ্রপ্রদেশে বেড়েছে প্রায় ৫৫%। অন্যদিকে অধিকাংশ বড় রাজ্যেই কর্মদিবস কমেছে।
পশ্চিমবঙ্গকে এই তুলনায় রাখা হয়নি, কারণ ২০২৫ সালের একই সময়ে রাজ্যে MGNREGA-র কাজ বন্ধ ছিল। ফলে গত বছরের ভিত্তির সঙ্গে সরাসরি তুলনা করে এ রাজ্যের জন্য নির্ভরযোগ্য বৃদ্ধি বা পতনের হার বের করা সম্ভব নয়।
সব মিলিয়ে নতুন প্রকল্পের নামেই যখন ১২৫ দিনের কর্মসংস্থানের গ্যারান্টি, তখন প্রথম দু’মাসের কর্মদিবসের পরিসংখ্যান স্বাভাবিকভাবেই নজর কেড়েছে। তবে এটি স্থায়ী প্রবণতা, নাকি প্রকল্প বদলের প্রাথমিক প্রশাসনিক ধাক্কা—তার উত্তর পেতে আগামী কয়েক মাসের তথ্যের দিকে তাকাতেই হবে। SBI Research-ও জানিয়েছে, পরবর্তী সময়ে প্রকল্পের বাস্তবায়ন বাড়লে ছবিটা আরও স্পষ্ট হবে।



