নজরবন্দি ব্যুরো: ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিলের পর নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করতে পশ্চিমবঙ্গকে আরও সময় দিল সুপ্রিম কোর্ট। ৩১ মে ২০২৭-এর মধ্যে প্রায় ৩৫ হাজার শূন্যপদে নিয়োগ সম্পূর্ণ করার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। তবে একই সঙ্গে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে—এই সময়সীমাই শেষ, এরপর আর অতিরিক্ত সময় দেওয়া হবে না।
সোমবার বিচারপতি সঞ্জয় কুমার এবং বিচারপতি সচিন সচদেবা’র বেঞ্চ রাজ্য সরকারের আবেদনে সাড়া দিয়ে এই সময়সীমা বাড়িয়েছে। নবম-দশম এবং একাদশ-দ্বাদশ মিলিয়ে মোট ৩৫ হাজার শূন্যপদে নিয়োগের কথা আদালতকে জানিয়েছিল রাজ্য। এর মধ্যে নবম-দশমে প্রায় ২৩ হাজার এবং একাদশ-দ্বাদশে প্রায় ১২ হাজার পদ রয়েছে।
নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত ‘চিহ্নিত অযোগ্য’ নন, এমন শিক্ষকদের অন্তর্বর্তীকালীনভাবে চাকরিতে বহাল থাকার যে নির্দেশ ১৮ ডিসেম্বর দেওয়া হয়েছিল, সেটিও বহাল রেখেছে সুপ্রিম কোর্ট। অর্থাৎ আপাতত তাঁদের চাকরি থাকবে ৩১ মে ২০২৭ পর্যন্ত।
রাজ্যের তরফে আদালতে জানানো হয়েছিল, বিপুল সংখ্যক শূন্যপদে নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে আরও অন্তত আট মাস প্রয়োজন। সেই আবেদনের ভিত্তিতেই সোমবার প্রায় ন’মাস সময় দেওয়া হয়েছে।
তবে এই বাড়তি সময়ের সঙ্গে রয়েছে কড়া শর্তও। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, ৩১ মে ২০২৭-এর পর আর সময়সীমা বাড়ানো হবে না। ফলে স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC) এবং মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সামনে এখন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গোটা নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করার চাপ।
এই মামলার সূত্রপাত ২০১৬ সালের স্কুল সার্ভিস কমিশনের নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে। সুপ্রিম কোর্ট সেই নিয়োগের সম্পূর্ণ প্যানেল বাতিল করে দেয়। এর জেরে প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীর চাকরি চলে যায়।
এর পর নতুন করে নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছিল শীর্ষ আদালত। আদালতের নির্দেশ মেনে নতুন নিয়োগের পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। তবে ‘চিহ্নিত অযোগ্য’ প্রার্থীদের সেই পরীক্ষায় বসার সুযোগ দেওয়া হয়নি। যোগ্যতার আওতায় থাকা অন্য প্রার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিলেও এখনও পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হয়নি।
আদালতের আগের নির্দেশ অনুযায়ী, ‘চিহ্নিত অযোগ্য’ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে যাঁরা চাকরি করেছিলেন, তাঁদের বেতন ফেরত দেওয়ার বিষয়টিও কার্যকর রয়েছে। অন্যদিকে, নতুন নিয়োগ সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত চিহ্নিত অযোগ্য নন—এমন শিক্ষকদের অন্তর্বর্তী চাকরি চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থীদের হয়ে মামলায় সওয়াল করেন আইনজীবী ফিরদৌস শামিম এবং গোপা বিশ্বাস। নির্দেশের পর ফিরদৌস জানান, ৩১ মে ২০২৭-এর মধ্যে নবম-দশম, একাদশ-দ্বাদশের শিক্ষক এবং গ্রুপ সি ও গ্রুপ ডি শিক্ষাকর্মী—সব ক্ষেত্রেই নিয়োগ শেষ করতে হবে।
তিনি আরও জানান, এর আগে দু’বার সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। এবার আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, এর পর আর সময় বাড়ানোর সুযোগ নেই। ৩১ মে ২০২৭ পর্যন্ত যাঁরা অন্তর্বর্তী নির্দেশের আওতায় চাকরিতে রয়েছেন, তাঁরা সেই সময় পর্যন্ত বহাল থাকবেন বলেও জানান তিনি।
তবে নিয়োগ সংক্রান্ত যে সমস্ত পৃথক বিষয় কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta High Court)-এ এখনও বিচারাধীন, সেগুলিতে সোমবারের নির্দেশে কোনও হস্তক্ষেপ করেনি সুপ্রিম কোর্ট। সেই বিষয়গুলির সিদ্ধান্ত কলকাতা হাই কোর্টই নেবে।
ফলে ২৬ হাজার চাকরি বাতিলের মামলায় সোমবারের নির্দেশ একদিকে চাকরিতে থাকা ‘যোগ্য’ শিক্ষকদের আপাতত স্বস্তি দিল, অন্যদিকে রাজ্য ও এসএসসির সামনে বেঁধে দিল চূড়ান্ত সময়সীমা। এখন নজর থাকবে, ৩১ মে ২০২৭-এর মধ্যে ৩৫ হাজার নিয়োগের এই বিশাল প্রক্রিয়া সত্যিই শেষ করা যায় কি না।



