নজরবন্দি ব্যুরোঃ করোনার পরে নতুন আতঙ্ক বিশ্বজুড়ে, ক্রমেই উদ্বেগ বাড়াচ্ছে মাঙ্কি ভাইরাস। এবার ইংল্যান্ড ছাড়াও স্পেন ও পর্তুগালের মতো একাধিক দেশে মিলল মাঙ্কি পক্সে আক্রান্ত রোগীর হদিস। শুধু ইউরোপ নয়, আমেরিকার এক ব্যক্তিও এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বলে খবর। একই রকমের উপসর্গ দেখা দেওয়ায় পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে আরও বেশ কিছু ব্যক্তিকে।
আরও পড়ুনঃ দোষী সাব্যস্ত করা হল কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা ইয়াসিন মালিককে, সাজা ঘোষণা ২৫ মে
মার্কিন সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল (সিডিসি) জানিয়েছে, যে ব্যক্তির মধ্য়ে সংক্রমণ পাওয়া গেছে তিনি কিছুদিন আগেই কানাডা সফর করে এসেছেন। তাঁর আশপাশের কতজনের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে তা এখন কনট্যাক্ট ট্রেসিং করে খুঁজে বের করতে হবে। কানাডার কিউবেক শহরে এখনই ১৩ জন সংক্রমিত। আরও অনেকের মধ্য়ে সংক্রমণ ছড়িয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি এক বিশেষ ধরনের বসন্ত। জলবসন্ত বা গুটিবসন্তের প্রতিকার থাকলেও বিরল এই রোগটি নিরাময়ে এখনও পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনও চিকিৎসাপদ্ধতি জানা নেই চিকিৎসকদের।
এই রোগের প্রাথমিক উপসর্গের মধ্যে রয়েছে জ্বর, মাথা যন্ত্রণা, পিঠ ও গায়ে ব্যথার মতো লক্ষণ। দেখা দিতে পারে কাঁপুনি ও ক্লান্তিও। সঙ্গে ছোট ছোট ক্ষতচিহ্ন দেখা দিতে থাকে শরীরে। হাম, বসন্ত, স্কার্ভি এবং সিফিলিসের কিছু কিছু লক্ষণের সঙ্গে এই রোগের উপসর্গগুলির কিছুটা মিল পাওয়া যায়। তাই অনেকেই এই রোগের প্রাথমিক উপসর্গগুলি চিনতে ভুল করেন।
এতদিন চিকিৎসকদের ধারণা ছিল ‘ড্রপলেট’-এর মাধ্যমেই ছড়ায় এই রোগ। তাই বিশেষজ্ঞরা ভেবেছিলেন, শ্বাসনালি, ক্ষত স্থান, নাক, মুখ কিংবা চোখের মাধ্যমে এই ভাইরাস প্রবেশ করতে পারে সুস্থ ব্যক্তির দেহে। কিন্তু নতুন আক্রান্তদের পরীক্ষা করে চিকিৎসকদের আশঙ্কা, যৌন মিলনের মাধ্যমেও ছড়াতে পারে মাঙ্কি ভাইরাস। সেই মর্মে হুঁশিয়ারিও দেওয়া হচ্ছে বলে খবর। মাঙ্কি পক্সে আক্রান্ত কারও সঙ্গে যৌন মিলন হলে তার সঙ্গীরও মাঙ্কি পক্সে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যাচ্ছে বলেই প্রাথমিক অনুমান বিশেষজ্ঞদের একাংশের।

করোনার পরে নতুন আতঙ্ক মাঙ্কিপক্স মাঙ্কিপক্স এক ধরনের ভাইরাস ঘটিত রোগ। গুটিবসন্ত যে গোত্রের ভাইরাস, মাঙ্কিপক্সও সেই একই গোত্রের। Orthopoxvirus genus পরিবারের ভাইরাসই এই রোগ ছড়ায়। মাঙ্কিপক্স ভাইরাসের সংক্রমণ প্রথম মানুষের শরীরে ধরা পড়ে ১৯৭০ সালে কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে। আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে একসময় মহামারীর মতো দেখা দিয়েছিল এই রোগ। এখন বিশ্বের অনেক দেশেই মাঙ্কিপক্সের (Monkeypox) সংক্রমণ দেখা যায়।
এই ভাইরাসের ইনকিউবেশন পিরিয়ড ২-৩ দিন। সংক্রমণ ছড়ানোর তিন দিনের মাথায় ধূম জ্বর আসবে রোগীর। কাঁপুনি দিয়ে জ্বর হতে পারে। সেই সঙ্গেই সারা শরীরে বড় বড় ফোস্কার মতো র্যাশ বের হবে (Monkeypox)। ত্বক শুকিয়ে খসখসে হয়ে যাবে, প্রচণ্ড চুলকানি, জ্বালা হবে র্যাশের জায়গায়। একই সঙ্গে অসহ্য় মাথাব্যথা, পেশির খিঁচুনিও হতে পারে। শরীর দুর্বল হয়ে পড়বে। প্রায় দুই থেকে চার সপ্তাহ ভোগাবে এই রোগ।
করোনার পরে নতুন আতঙ্ক বিশ্বজুড়ে, যৌন মিলনেও ছড়াছে মাঙ্কি ভাইরাস, হুঁশিয়ারি বিশেষজ্ঞদের

প্রাণীর শরীর থেকে ছড়ায় এই রোগ। আফ্রিকান রডেন্ট ও বাঁদর জাতীয় প্রাণীদের থেকেই এই রোগের ভাইরাস ছড়ায় বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান। সিডিসি জানাচ্ছে, এই ভাইরাসের উৎস কী, তা সঠিকভাবে জানা যায়নি এখনও। প্রাণীর মাংস, মলমূত্র থেকে রোগ ছড়াতে পারে। আবার রডেন্ট জাতীয় প্রাণী আঁচড়ে বা কামড়ে দিলে ভাইরাস শরীরে ঢুকতে পারে।



