২০২৬–২৭ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেটে করদাতাদের জন্য একাধিক স্বস্তিদায়ক সংস্কারের প্রস্তাব আনলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। আয়কর রিটার্ন দাখিল, সংশোধন এবং টিডিএস সংক্রান্ত জটিলতা কমিয়ে কর ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও ব্যবহারবান্ধব করাই এই পদক্ষেপগুলির মূল লক্ষ্য বলে জানালেন অর্থমন্ত্রী। বাজেট ঘোষণার পরেই করদাতা ও প্রবাসী ভারতীয়দের মধ্যে এই সংস্কারগুলি নিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে।
বাজেট প্রস্তাব অনুযায়ী, নামমাত্র ফি দিয়ে আয়কর রিটার্ন (ITR) সংশোধনের সময়সীমা আরও বাড়ানো হবে। এর ফলে ভুল সংশোধন বা তথ্য আপডেট করা করদাতাদের কাছে আরও সহজ হবে। পাশাপাশি, যাঁরা ITR-1 ও ITR-2 ফর্মে রিটার্ন দাখিল করেন, তাঁদের জন্য আগের মতোই ৩১ জুলাই পর্যন্ত সময়সীমা বজায় রাখা হয়েছে।


এছাড়া যেসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা ট্রাস্টের ক্ষেত্রে অডিট বাধ্যতামূলক নয়, তাঁদের জন্য রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা বাড়িয়ে ৩১ আগস্ট করা হয়েছে। এতে ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের উপর সময়সীমার চাপ অনেকটাই কমবে বলে মনে করছেন কর বিশেষজ্ঞরা।
প্রবাসী ভারতীয়দের (NRI) ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের কথা ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী। ভারতে স্থাবর সম্পত্তি বিক্রির সময় টিডিএস কাটার প্রক্রিয়া এতদিন তুলনামূলক ভাবে জটিল ছিল। নতুন নিয়মে এবার থেকে টিডিএস কাটার দায়িত্ব থাকবে ভারতে থাকা ক্রেতার উপর। এর সঙ্গে সঙ্গে TAN নম্বর উদ্ধৃত করার বাধ্যবাধকতাও তুলে দেওয়া হয়েছে, যা এনআরআই করদাতাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল।
নির্মলা সীতারমণের মতে, এই সংস্কারগুলির ফলে কর পরিশোধ ও রিটার্ন দাখিলের প্রক্রিয়া আরও মসৃণ হবে। পাশাপাশি, কর ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা বাড়বে এবং স্বেচ্ছায় কর মেনে চলার প্রবণতা আরও বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে প্রবাসী ভারতীয় এবং ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য এটি একটি বড় স্বস্তির বার্তা বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।


সব মিলিয়ে, এবারের বাজেটে করদাতাদের জন্য কোনও অতিরিক্ত বোঝা নয়, বরং সহজ নিয়ম ও সময়সীমার ছোঁয়াই সবচেয়ে বড় বার্তা হয়ে উঠেছে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ছোটমাপের আয়কর ফাঁকিতে শুধুই জরিমানা করা হবে। জেলে যাওয়া থেকে বাঁচতে দিতে হবে অতিরিক্ত ১০ শতাংশ জরিমানা।







