নজরবন্দি ব্যুরোঃ তাঁর আমলে কিভাবে বেকারত্বকে হারিয়ে দিয়েছে রাজ্য, আজ নিজেই জানালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়! রাজ্যে বেকার বা চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলন নতুন কোন ঘটনা নয়। কিন্তু লকডাউন চলাকালীন রাজ্যের লাখো বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থী প্রতিবাদের যে পথ বেছে নিয়েছেন তা এক কথায় অনবদ্য। লকডাউনে বাড়িতে বসে ভার্চুয়াল মাধ্যমে প্রতিবাদ। উচ্চ প্রাথমিক, গ্রুপ ডি, ভিআরপি, শিক্ষক সংগঠন থেকে শুরু করে মুখ্যমন্ত্রীর এমপ্লয়মেন্ট ব্যাঙ্কে নাম লেখানো চাকরি প্রার্থীরা ঝড় তুলেছে ভার্চুয়াল দুনিয়া কে হাতিয়ার করে। মুখ্যমন্ত্রী থেকে সচিব আমলা বা বিভিন্ন দফতরের অফিশিয়াল ইমেইল সব কিছুতেই হাজার হাজার প্রতিবাদী মেইল পৌঁছেছে গত ৩ মাসে।
আরও পড়ুনঃ করোনা রুখতে নতুন উদ্যোগ; কার্ফু জারি করল কেরল সরকার।


দেখা গেছে মুখ্যমন্ত্রী, অভিষেক ব্যানার্জী বা পার্থ চ্যাটার্জির মত নেতারা ফেসবুকে লাইভ হলেই তাঁর তলায় হাজার হাজার কমেন্টে প্রতিবাদী আর্তনাদ। অবস্থা এমন যায়গায় পৌঁছেছে যে পার্থবাবু বন্ধই করে দিয়েছে কমেন্ট করার অপশন। কিন্তু এতে সরকারের টনক নড়া তো দূরের কথা বরং বেশ চটেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এসব কিছুই তাঁর মনে হয়েছে বিরোধীদের চক্রান্ত। গতকাল একুশে জুলাই ভার্চুয়াল সভামঞ্চ থেকে তিনি কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে রাজ্যের সাফল্য নিয়ে সবাই কে গর্ব করতে বলেছিলেন। আর আজ জানালেন কিভাবে পশ্চিমবঙ্গ তাঁর আমলে বেকারত্ব কে হারিয়ে দিয়েছে।
গতকাল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে আমরা প্রায় ৫২০টা ক্লাস্টার তৈরি করেছি, ৬৫টা ইন্ডাস্ট্রিয়াল হাব তৈরি করেছি। এছাড়াও বাংলাশ্রী প্রকল্পে অনেক ক্ষুদ্র শিল্পকে আমরা ভবিষ্যতে ইনসেন্টিভ দেব। কর্মসাথী প্রকল্পে এক লক্ষ বেকার যুবক যুবতীকে ঋণ দেব। রাজারহাটে নির্মীয়মাণ বেঙ্গল সিলিকন হাব এবং বানতলায় লেদার কমপ্লেক্স তৈরি হচ্ছে। এগুলোতে পাঁচ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। হাওড়া জেলাতেও নানান ক্লাস্টারে আরও পাঁচ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। সারাদেশে যখন বেকারত্বের হার ৪৫ শতাংশ বেড়ে গেছে সেখানে বাংলায় তা ৪০ শতাংশ কমে গেছে। এটা নিয়ে গর্ব করবেন না আপনারা? শুধু মিথ্যে কথা বলবেন? শুধু মিথ্যে কথা বললে হবে৷ বাংলায় এক কোটি ৩৬ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।“
তাঁর আমলে কিভাবে বেকারত্বকে হারিয়ে দিয়েছে রাজ্য, জানালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়! আজ মুখ্যমন্ত্রী রাজ্য সরকারের উপান্ন ভবন উদ্বোধন করতে আসেন। সেখানে সাংবাদিকদের বলেছেন, “করোনা আবহ ও লকডাউন চালকালীন দেশে বেকারত্ব বেড়েছে। কিন্তু বাংলায় কমেছে বেকারত্ব। কারণ বাংলা প্রথম থেকেই বেকারত্ব মোকাবিলার একাধিক পরিকল্পনা করেছিল রাজ্য। যে কোনও পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্ল্যান এ, বি, সি তৈরি রাখা দরকার। এ নিয়েই আজকে বৈঠকে বসেছিলাম আমরা।” তাঁর দাবি, “রাজ্যে কৃষির ও শিল্প-দুইয়েরই উন্নতি করা গিয়েছে, তাই বেকারত্ব অনেকটাই কমেছে রাজ্যে।”









