উমর খালিদকে ঘিরে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ে আপাতত বড় স্বস্তি। দিল্লি হাইকোর্ট শেষমেশ তিন দিনের অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর করেছে জেএনইউ-এর প্রাক্তন ছাত্রনেতার। অসুস্থ মায়ের অস্ত্রোপচার এবং প্রয়াত কাকার ‘চেহলাম’-এ যোগ দেওয়ার আবেদনেই এই সিদ্ধান্ত আদালতের।
মাত্র তিন দিন আগেই নিম্ন আদালত তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ করেছিল। সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেই দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন উমর খালিদ। শুক্রবার আদালত ১ জুন থেকে ৩ জুন পর্যন্ত তাঁকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেওয়ার নির্দেশ দেয়।


গত ১৯ মে করকরডুমা আদালতের অতিরিক্ত দায়রা বিচারক সমীর বাজপেয়ী উমরের আবেদন খারিজ করেছিলেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, প্রয়াত কাকা তাঁর নিকট আত্মীয় নন এবং অসুস্থ মায়ের দেখভালের জন্য পরিবারের অন্য সদস্যও রয়েছেন।
তবে হাইকোর্টে উমর খালিদ দাবি করেন, প্রয়াত কাকার সঙ্গে তাঁর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। শোকের সময়ে তিনি তাঁর ৮৭ বছরের দিদার পাশে থাকতে চান। পাশাপাশি ২ জুন মায়ের অস্ত্রোপচারের সময়ও পরিবারের বড় ছেলে হিসেবে উপস্থিত থাকা প্রয়োজন বলেও আদালতকে জানান তিনি।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, তাঁর মা সাবিহা খানম গত দু’বছর ধরে পিঠের সিস্ট ও টিউমারের সমস্যায় ভুগছেন। ৭১ বছর বয়সী বাবার পক্ষে একা সব সামলানো কঠিন বলেও দাবি করেন উমর।


হাইকোর্টে তিনি আরও জানান, এর আগেও ২০২২, ২০২৪ এবং ২০২৫ সালে পারিবারিক কারণে অন্তর্বর্তী জামিন পেয়েছিলেন এবং প্রতিবারই আদালতের সমস্ত শর্ত মেনে চলেছেন। যদিও সরকারি আইনজীবী এই জামিনের বিরোধিতা করে বলেন, পরিবারের অন্য সদস্যরা চিকিৎসার সময় সাহায্য করতে সক্ষম।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে টানা জেলবন্দি রয়েছেন উমর খালিদ। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA) বিরোধী আন্দোলনের সময় উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে দাঙ্গা ছড়ানোর ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে ইউএপিএ-সহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।
২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে সিএএ ও এনআরসি বিরোধী আন্দোলনকে ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল উত্তর-পূর্ব দিল্লি। সেই সংঘর্ষে ৫৩ জনের মৃত্যু হয় এবং আহত হন ৭০০-রও বেশি মানুষ। দিল্লি পুলিশের দাবি ছিল, এই দাঙ্গার পরিকল্পনার সঙ্গে উমর খালিদ ও তাঁর সহযোগীদের যোগ রয়েছে। যদিও শুরু থেকেই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন তিনি।
দিল্লি হাইকোর্টের এই অন্তর্বর্তী জামিনের সিদ্ধান্তে আপাতত কিছুটা স্বস্তি মিললেও, উমর খালিদকে ঘিরে দীর্ঘ আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্ক এখনও অব্যাহত রয়েছে।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



