রাজনৈতিক বিতর্কের আবহে এবার আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ তথা প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার ইউসুফ পাঠান। ভাদোদরায় একটি সরকারি জমির দখল ও বরাদ্দ সংক্রান্ত মামলায় গুজরাত হাই কোর্টের কড়া পর্যবেক্ষণে নতুন করে চাপে পড়েছেন তিনি। আদালত সরাসরি প্রশ্ন তুলেছে, চূড়ান্ত বরাদ্দ ছাড়াই কীভাবে তাঁর দখলে এল ওই জমি।
ভাদোদরা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের (ভিএমসি) জমি দীর্ঘদিন ধরে দখলে রাখার অভিযোগকে কেন্দ্র করে মামলাটি দায়ের হয়েছে। এর আগে একক বেঞ্চের একটি আদেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন করেছিলেন ইউসুফ পাঠান।


ইউসুফের আইনজীবীর দাবি, ১৯৯৯ সালের একটি সরকারি নীতি অনুযায়ী আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের জমি বরাদ্দের সুযোগ রয়েছে। সেই নীতির ভিত্তিতেই তিনি জমি পাওয়ার অধিকারী। পাশাপাশি ২০১২ সালে ভিএমসির স্থায়ী কমিটি বাজারদরে জমি বরাদ্দের একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছিল বলেও আদালতে জানানো হয়।
তবে এই যুক্তিতে সন্তুষ্ট হয়নি আদালত। ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত ছিল কেবল একটি প্রস্তাব, সেটি কোনও চূড়ান্ত বরাদ্দপত্র নয়। ফলে শুধুমাত্র ওই প্রস্তাবের ভিত্তিতে জমির দখল নেওয়ার অধিকার তৈরি হয় না।
শুনানির সময় আদালত আরও প্রশ্ন তোলে, জমি বরাদ্দের চূড়ান্ত আদেশ জারি না হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে জমিটি ইউসুফ পাঠানের দখলে গেল। বিচারপতিরা জানতে চান, কোন আধিকারিকের নির্দেশে ওই জমির নিয়ন্ত্রণ তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল।


আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত জমির জন্য ভাদোদরা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনকে কোনও অর্থ প্রদান করা হয়নি। এমনকি ইজারা দলিল বা অন্য কোনও আইনি প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়নি। সরকারি জমিতে বেড়া দেওয়ার ঘটনাকেও আদালত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করেছে।
হাই কোর্ট সতর্ক করে দিয়েছে, যদি বেআইনি দখলের অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে বাজারদর অনুযায়ী ভাড়া ও জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে ইউসুফ পাঠানকে। আদালত তাঁকে এ-ও জানাতে বলেছে, জমি খালি করতে হলে কত সময় প্রয়োজন হবে।
বিচারপতিরা আরও স্পষ্ট করেছেন, যদি স্বেচ্ছায় জমির দখল ছাড়া না হয়, তাহলে আদালতের নির্দেশে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জমি পুনর্দখলের অনুমতি দেওয়া হতে পারে। ফলে মামলার গুরুত্ব আরও বেড়ে গিয়েছে।
এই বিষয়ে বিস্তারিত জবাব জমা দেওয়ার জন্য ইউসুফ পাঠানকে এক সপ্তাহ সময় দিয়েছে আদালত। আগামী ১৫ জুন মামলার পরবর্তী শুনানিতে জমি খালি করা, ক্ষতিপূরণ এবং দখল সংক্রান্ত বিষয়গুলি নিয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে।
এক সময়ের বিশ্বকাপজয়ী অলরাউন্ডার এবং বর্তমান সাংসদের বিরুদ্ধে আদালতের এই কড়া অবস্থান রাজনৈতিক ও আইনি— দুই মহলেই ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন নজর ১৫ জুনের শুনানির দিকে, যেখানে মামলার ভবিষ্যৎ দিক অনেকটাই স্পষ্ট হতে পারে।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



