দিল্লি অশান্তি মামলায় দীর্ঘ দিন ধরে বিচারাধীন উমর খালিদ অবশেষে পেলেন সীমিত সময়ের জন্য মুক্তির সুযোগ। তাঁর বোনের বিয়েতে অংশগ্রহণের জন্য করা আবেদন গ্রহণ করে আদালত তাঁকে দু’সপ্তাহের অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর করেছে। তবে জামিন পুরোপুরি শর্তাধীন, এবং সেই শর্তগুলি কঠোরভাবে মানতে হবে খালিদকে।
উমর খালিদ ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে দিল্লির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের দাঙ্গার ঘটনায় ইউএপিএ-সহ একাধিক ধারায় গ্রেফতার হন। তারপর থেকে নিয়মিত জামিনের আবেদন জানালেও, বারবার তা খারিজ হয়েছে আদালতে। এই পরিস্থিতিতে শুধুমাত্র পারিবারিক অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার মানবিক কারণ বিবেচনা করে আদালত তাঁকে অস্থায়ী স্বস্তি দিয়েছে।
কী কী শর্ত থাকছে জামিনে?
আদালত পরিষ্কার নির্দেশ দিয়েছে—
-
জামিনের মেয়াদ শুধুমাত্র ১৪ দিন।
-
এই সময়ের মধ্যে দিল্লির বাইরে যেতে পারবেন না।
-
তদন্তে যাতে কোনওভাবেই প্রভাব না পড়ে, সে জন্য তদন্তকারী অফিসারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হবে।
-
আদালতের নির্দিষ্ট দিনগুলিতে ব্যক্তিগতভাবে হাজির থাকতে হবে।
-
মিডিয়ার সামনে মামলা নিয়ে মন্তব্য করতে পারবেন না।
আইনজীবীদের মতে, এই ধরনের সামাজিক বা পারিবারিক অনুষ্ঠানে অস্থায়ী জামিন দেওয়ার নজির রয়েছে। তবে খালিদের মামলার মতো গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত আদালতের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিরই প্রতিফলন।

খালিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ—সিএএ-এনআরসি বিরোধী আন্দোলনের নামে সহিংসতা উসকে দেওয়ার ষড়যন্ত্রে তিনি যুক্ত ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা এখনও বিচারাধীন। বর্তমানে তিনি ইউএপিএ-র অধীনে অভিযুক্ত হওয়ায় সাধারণ জামিন পাওয়া কঠিন। সেই কারণে এই অন্তর্বর্তী জামিন প্রক্রিয়াকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।
মাত্র দুই সপ্তাহ হলেও, পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারাটাই খালিদের জন্য বড় স্বস্তি। তবে মামলার দীর্ঘ আইনি লড়াই এখনও শেষ হয়নি। আদালতের পরবর্তী শুনানিতেই নির্ধারিত হবে তাঁর ভবিষ্যৎ আইনি পথ।



