নজরবন্দি ব্যুরোঃ ৯ মাস ধরেই সাসপেনশনে রয়েছেন বিশ্বভারতীর অধ্যাপক সুদীপ্ত ভট্টাচার্য। এ বছর জানুয়ারি মাসে সুদীপ্ত বাবুকে সাসপেন্ড করেছিলেন বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। সেই সাসপেনশনের মেয়াদ শেষ হয় ৫ সেপ্টেম্বর। ৬ সেপ্টেম্বর থেকে সাসপেনশনের মেয়াদ এক মাসের জন্য বাড়ানো হয়েছে। তার মাঝেই ফের তাঁকে পরপর দু’বার শোকজ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তার পরেই ফের শুরু হয়েছে গুঞ্জন। তবে কি ওই অধ্যাপককে ছাঁটাইয়ের পথে হাঁটছে শান্তিনিকেতন।
আরও পড়ুনঃ রাসায়নিক বয়লার বিস্ফোরণ, কর্নাটকে আহত ৪


গত কয়েকদিন ধরে অশান্ত ছিল কবিগুরুর শান্তিনিকেতন। অর্থনীতি বিভাগের সোমনাথ সৌ, ফাল্গুনী পান এবং রূপা চক্রবর্তী নামে সংগীত বিভাগের পড়ুয়াকে ৬ মাসের জন্য সাসপেন্ড করা হয়েছিল। পরবর্তী কালে বাড়ানো হয় সেই মেয়াদ এবং তার মাঝেই তাদের বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে টানা কয়েকদিন ধরে বিক্ষোভের ঝড় বয়ে গিয়েছে ক্যাম্পাস চত্বরে।
ছাত্রছাত্রী থেকে বোলপুরের সাধারণ নাগরিক বৃন্দ থেকে সকলেই পাশে দাঁড়িয়েছিল ছাত্রীদের। টানা বিক্ষোভ, উপাচার্যকে ঘেরাও, একাধিক ঘটনার পরে আদালতের নির্দেশে বিক্ষোভ তোলে ছাত্র ছাত্রীরা। সঙ্গেই নির্দেশ দেওয়া হয় ওই ছাত্রছাত্রীদের ক্লাসে ফেরাতে শীঘ্রই।
সেই সময়ে ছাত্র ছাত্রীদের পাশে ছিলেন, অর্থনীতি বিভাগের সাসপেন্ডেড অধ্যাপক সুদীপ্ত ভট্টাচার্য। সপ্তাহ খানেক আগেই তাঁকেই সাসপেন্ড করা হয়ছিল। বলা হয়েছিল তিন দিনের মধ্যে উত্তর দিতে হবে অধ্যাপকে। সেই সময় সুদীপ্ত বাবু বলেছিলেন, “এটা প্রতিহিংসাপরায়ণ একটি পদক্ষেপ। উনি (ভিসি বিদ্যুৎ চক্রবর্তী) যাঁকে পছন্দ নয়, তাঁর বিরুদ্ধেই এমন পদক্ষেপ নিচ্ছেন। তবে যে অভিযোগটা উঠছে, আমি একা ছাত্রদের আন্দোলনকে সমর্থন করেছিলাম, তা ঠিক নয়। ওদের সমর্থন করেছিল আমাদের সংগঠন, VBUFA। কিন্তু এটা ব্যক্তি সুদীপ্ত ভট্টাচার্যকেই শোকজ করা হয়েছে।” প্রয়োজনে আইনি পথে হাঁটার ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন।


সেসবের রেশ মেটার আগেই ফের গতকাল শোকজ লেটার পাঠানো হয়েছে। কিন্তু ৯ মাস ধরে সাসপেন্ড থাকা অধ্যাপকে ঘনঘন কেন শোকজ করছে বিশ্ববিদ্যালয় তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। এই মুহুর্তে দিল্লিতে রয়েছেন সুদীপ্ত বাবু। অনেকেই মনে করেছেন সাসপেন্ড, শোকজের মধ্যে দিয়েই ধাপে ধাপে ছাঁটাইয়ের পথে হাঁটছে বিশ্বভারতী।







