ইরান-আমেরিকা সংঘাতের আবহে ফের বড়সড় হামলার হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। শুক্রবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি ইরানের গভীর ভূগর্ভস্থ ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ট্রাম্পের দাবি, ওই ঘাঁটির প্রতিটি গতিবিধির উপর নজর রাখছে আমেরিকা। পরিস্থিতি খারাপ হলে সেখানে হামলা চালিয়ে স্থাপনাটি ‘তছনছ’ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
ট্রাম্পের বক্তব্য ঘিরে নতুন করে চড়েছে পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনার পারদ। তাঁর দাবি, তেহরানকে কোনও ভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সুযোগ না দেওয়াই ওয়াশিংটনের সামরিক অভিযানের মূল লক্ষ্য। গত পাঁচ মাস ধরে চলা সংঘাতের প্রসঙ্গ তুলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, এই সময়ের মধ্যে আমেরিকার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা।
এর পরেই পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন নিয়ে সরাসরি সতর্কবার্তা দেন ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্য, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে ওই ভূগর্ভস্থ পরমাণু স্থাপনায় হামলা চালাতে পিছপা হবে না আমেরিকা। একইসঙ্গে সেখানে কী ধরনের তৎপরতা চলছে, তার উপর মার্কিন গোয়েন্দাদের কড়া নজরদারি রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনকে ইরানের অন্যতম সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ পরমাণু স্থাপনা হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। নাতাঞ্জ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রের কাছাকাছি পাহাড়ের গভীরে তৈরি এই কমপ্লেক্সে বিপুল সংখ্যক সেন্ট্রিফিউজ সরিয়ে রাখা হয়েছে বলে দাবি বিভিন্ন প্রতিবেদনে। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে ব্যবহৃত এই যন্ত্রগুলিকে ইরান সেখানে সরিয়ে নিয়ে গিয়েছে বলে ইজরায়েলি গোয়েন্দাদের ধারণার কথাও উঠে এসেছে।
গভীর ভূগর্ভে অবস্থানের কারণে পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনকে আকাশপথে আঘাত করা অত্যন্ত কঠিন বলে মনে করেন ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ। ফলে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি বাস্তবে সামরিক পদক্ষেপে পরিণত হলে তা শুধু ইরান-আমেরিকা সংঘাতেই নতুন মাত্রা যোগ করবে না, গোটা পশ্চিম এশিয়াতেও তার প্রভাব পড়তে পারে।
ইরান ও আমেরিকার মধ্যে গত কয়েক মাস ধরেই সংঘাত অব্যাহত। মাঝখানে ৬০ দিনের সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও তা স্থায়ী শান্তি ফেরাতে পারেনি। বরং যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে দু’পক্ষই হামলা চালিয়েছে বলে পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে ইরানের আরও একটি অত্যন্ত সুরক্ষিত পরমাণু স্থাপনাকে লক্ষ্য করার হুঁশিয়ারি আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন আশঙ্কা তৈরি করেছে।
সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ঘিরে সংঘাত আরও বিপজ্জনক মোড় নিতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনের মতো গভীর ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় হামলা হলে তার সামরিক ও কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া কতটা বিস্তৃত হবে, এখন সেটাই নজরে গোটা বিশ্বের।



