মার্কিন হামলার পাল্টা দিল ইরান, ক্ষেপণাস্ত্র হামলা যুক্তরাষ্ট্রের সেনাঘাঁটিতে! ফের চরম উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যে

ইরান থেকে মার্কিন সেনাঘাঁটির দিকে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের দাবি করেছে CENTCOM। সব মিসাইল প্রতিহত করার পাশাপাশি ইরানকে কড়া বার্তা দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে (Middle East) ফের যুদ্ধের আশঙ্কা আরও ঘনীভূত। ইরান (Iran) থেকে মার্কিন সেনাঘাঁটির উদ্দেশে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে বলে দাবি করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM)। তবে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, সব ক্ষেপণাস্ত্রই আকাশেই প্রতিহত করা হয়েছে। ঘটনার পরেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) ইরানকে নতুন করে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ফলে গোটা অঞ্চলে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এই হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে CENTCOM। সংস্থার দাবি, ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) আচমকা হামলার উদ্দেশ্যে ইরান থেকে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। তবে মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্রুত সক্রিয় হয়ে সমস্ত ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে ধ্বংস করে দেয়।

সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স (X)-এ প্রকাশিত বিবৃতিতে CENTCOM জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং পরিস্থিতির উপর নিবিড় নজর রাখা হচ্ছে।

একাধিক আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলির লক্ষ্য ছিল জর্ডান (Jordan)-এ অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি। গত সপ্তাহে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযান স্থগিত হওয়ার পর এই প্রথমবার ওই অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে এমন হামলার অভিযোগ সামনে এল।

ঘটনার পরপরই উপসাগরীয় দেশগুলির প্রতিক্রিয়াও সামনে এসেছে। কুয়েত (Kuwait) এবং কাতার (Qatar) পৃথক বিবৃতিতে জর্ডানের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে এই হামলার তীব্র নিন্দা করেছে।

কুয়েতের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, এই ধরনের হামলা শুধু জর্ডানের নিরাপত্তার উপর নয়, গোটা অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্যও বড় হুমকি। একই সঙ্গে জর্ডানের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে দেশটি।

অন্যদিকে কাতারের বিদেশ মন্ত্রকও জানিয়েছে, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে জর্ডানকে লক্ষ্যবস্তু করা আন্তর্জাতিক আইন এবং একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের পরিপন্থী। জর্ডানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেওয়া সব পদক্ষেপের প্রতি পূর্ণ সমর্থনের কথাও জানিয়েছে দোহা।

উল্লেখযোগ্যভাবে, এই ঘটনাটি ঘটেছে হোয়াইট হাউস (White House)-এ ট্রাম্প ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু (Benjamin Netanyahu)-র উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই। বৈঠকে ইরান ইস্যুই ছিল আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয়।

এর আগেই মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, তেহরান যদি ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনও সমঝোতায় না পৌঁছায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র আবারও সামরিক অভিযান শুরু করতে পারে। তাঁর দাবি, প্রয়োজন হলে সেতু, বিদ্যুৎকেন্দ্র-সহ গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোকেও লক্ষ্য করা হতে পারে।

ট্রাম্পের কথায়, ইরান যদি চুক্তিতে রাজি না হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র আবার অভিযান চালিয়ে “কাজ শেষ করবে”। তাঁর এই মন্তব্যের পরই ইরানকে ঘিরে নতুন করে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যদিও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করা হয়নি।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন