ইরানের কাছে ‘নেই পারমাণবিক অস্ত্র’, ট্রাম্পের দাবি ঘিরে নতুন জল্পনা

ট্রাম্পের দাবি, ইরান সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আমেরিকার হাতে তুলে দিতে রাজি— তবে তেহরানের তরফে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া নেই

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্য রাজনীতিতে বড় মোড়ের ইঙ্গিত— ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করলেন, ইরানের কাছে কোনও পারমাণবিক অস্ত্র নেই, বরং তাদের মজুত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আমেরিকার কাছে হস্তান্তর করতেও রাজি হয়েছে তেহরান। তবে এই দাবি নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি ইরান

হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প জানান, ইরান তাদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম— যাকে তিনি “পারমাণবিক ধুলো” বলে উল্লেখ করেন— ফেরত দিতে প্রস্তুত। তাঁর কথায়, “ইরানের কাছে কোনও পারমাণবিক অস্ত্র নেই, ওরাও সেটা স্বীকার করেছে। আমরা যে হামলা চালিয়েছিলাম, তার ফলে ইউরেনিয়াম মাটির নীচে চাপা পড়ে গিয়েছে, সেটাও তারা আমাদের দিতে রাজি হয়েছে।”

Shamim Ahamed Ads

প্রসঙ্গত, গত বছরে ইরানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পরমাণুকেন্দ্র— ইস্পাহান, নাতান্জ় এবং ফোরডোয়— লক্ষ্য করে হামলা চালায় আমেরিকা। ট্রাম্পের দাবি, সেই হামলার জেরেই ইরানের পরমাণু কর্মসূচি বড় ধাক্কা খেয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরেই আমেরিকা-ইরান সম্পর্কের অন্যতম বিতর্কিত ইস্যু এই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, ইরান শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের আড়ালে পরমাণু অস্ত্র তৈরির দিকে এগোচ্ছে। যদিও তেহরানের দাবি, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণভাবে অসামরিক ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য।

ট্রাম্প আরও ইঙ্গিত দেন, দুই দেশের মধ্যে একটি বড় সমঝোতা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছতে পারে। তাঁর মতে, “খুব শিগগিরই ইতিবাচক কিছু ঘটতে চলেছে”— যা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

এই মন্তব্যের তাৎপর্য আরও বেড়েছে কারণ, ঠিক এই সময়েই পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির ইরান সফরে রয়েছেন। আমেরিকা-ইরান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানকে সম্ভাব্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের এই মন্তব্য নতুন করে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে আলোড়ন ফেলেছে। তবে বাস্তবে সমঝোতা কতদূর এগোয়, তা নির্ভর করবে তেহরানের আনুষ্ঠানিক অবস্থান ও পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপের উপর।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত