পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়ে ইরানে সামরিক অভিযানে আমেরিকার সরাসরি ভূমিকার কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump। হামলার পর জাতির উদ্দেশে ভাষণে তিনি স্পষ্ট জানালেন, ইরানকে ‘জঙ্গিরাষ্ট্র’ মনে করে আমেরিকা এই পদক্ষেপ নিয়েছে এবং তাদের হাতে কোনও অবস্থাতেই পরমাণু অস্ত্র পৌঁছতে দেওয়া হবে না। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে এই ঘোষণা।
কেন হামলা চালাল আমেরিকা?
ট্রাম্পের দাবি, ইরানের শাসকগোষ্ঠী বিশ্বশান্তির জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে। তাঁর কথায়, “একটি জঙ্গিরাষ্ট্রের হাতে কোনও ভাবেই পরমাণু অস্ত্র থাকতে পারে না।” মার্কিন বাহিনী ইরানে একটি বড় সামরিক অভিযান শুরু করেছে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, এর লক্ষ্য ইরান থেকে আসা সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি নির্মূল করা এবং মার্কিন নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

পরমাণু কর্মসূচিই মূল কারণ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, গত বছর ইরানের তিনটি পরমাণু কেন্দ্রেও হামলা চালিয়েছিল আমেরিকা। সেই সময় তেহরানকে সতর্ক করা হয়েছিল যাতে তারা পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা বন্ধ করে। কিন্তু আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় সামরিক পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে ওয়াশিংটন।
ট্রাম্পের অভিযোগ, ইরান দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি জোরদার করে ইউরোপীয় দেশগুলিকে ভয় দেখাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে আমেরিকার জন্যও হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
‘জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন’
ভাষণে ট্রাম্প বলেন, এই অভিযান শুধুমাত্র সামরিক পদক্ষেপ নয়, বরং আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়। তাঁর বক্তব্য, মার্কিন বাহিনী ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ক্ষমতা ধ্বংস করবে এবং পশ্চিম এশিয়ায় অস্থিরতা তৈরিতে অভিযুক্ত ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলির শক্তি কমিয়ে দেবে।


অতীতের হামলার প্রসঙ্গ টানলেন ট্রাম্প
ভাষণে অতীতের একাধিক ঘটনার উল্লেখ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট—
-
তেহরানে মার্কিন দূতাবাস দখল ও ৪৪৪ দিন আমেরিকানদের বন্দি করে রাখা
সবচেয়ে বেশি বার পড়া হয়েছে:
ট্রাম্পের কব্জায় রুশ তেলবাহী জাহাজ! ‘টর্পেডো দিয়ে আমেরিকার বোট ডোবানোর আর্জি পুতিনকে -
১৯৮৩ সালে লেবাননের বেইরুটে মার্কিন মেরিন ঘাঁটিতে হামলা, যেখানে ২৪২ জন মার্কিন সেনা নিহত হন
-
পশ্চিম এশিয়ায় বিভিন্ন সশস্ত্র সংগঠনকে ইরানের মদতের অভিযোগ
তিনি দাবি করেন, প্রায় পাঁচ দশক ধরে ইরানের শাসকগোষ্ঠী আমেরিকা-বিরোধী অবস্থান নিয়েই চলেছে।
হামাস ও পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত
গাজ়ায় Hamas-এর হামলার প্রসঙ্গ তুলে ট্রাম্প বলেন, ইরান-সমর্থিত সংগঠনগুলির কার্যকলাপ ইজ়রায়েলসহ গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তাকে বিপন্ন করছে। তাঁর দাবি, ওই হামলাগুলিতে বহু সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে আমেরিকান নাগরিকও ছিলেন।
নতুন সংঘাতের আশঙ্কা
ইরানে মার্কিন হামলার স্বীকারোক্তি আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ পশ্চিম এশিয়ায় সামরিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা বাড়াতে পারে। এখন নজর— তেহরানের প্রতিক্রিয়া এবং আন্তর্জাতিক মহলের অবস্থানের দিকে।








