ট্রাম্পের কব্জায় রুশ তেলবাহী জাহাজ! ‘টর্পেডো দিয়ে আমেরিকার বোট ডোবানোর আর্জি পুতিনকে

আটলান্টিকে রুশ তেলবাহী জাহাজ আটক করায় আমেরিকার বিরুদ্ধে সামরিক প্রত্যাঘাতের দাবি তুললেন রুশ এমপি অ্যালেক্সেই জুরাভলেভ; পুতিনকে টর্পেডোর আর্জি।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

আটলান্টিকের জলরেখায় উত্তেজনা চরমে। রাশিয়ার একটি তেলবাহী জাহাজকে ধাওয়া করে আটক করেছে মার্কিন উপকূলরক্ষী বাহিনী। তার পালটা প্রতিক্রিয়ায় মস্কোয় যুদ্ধংদেহী সুর—রুশ আইনসভার এক সদস্য সরাসরি প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন-কে আর্জি জানালেন, টর্পেডো দিয়ে আমেরিকার বোট ডুবিয়ে প্রত্যাঘাত করা হোক।

ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু ‘ম্যারিনেরা’ (সাবেক বেলা-১) নামের রুশ তেলবাহী জাহাজ। রাশিয়ার দাবি, জাহাজটিকে পাহারা দিতে সাবমেরিন-সহ নৌসেনা মোতায়েনের চেষ্টা চলছিল। তবু মার্কিন উপকূলরক্ষী বাহিনী-র সহায়তায় মার্কিন মেরিন কমান্ডোরা জাহাজটি কব্জা করে। আমেরিকার বক্তব্য, ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর জারি করা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই তেল পরিবহণ করছিল ‘ম্যারিনেরা’; ফেডারাল আদালতের পরোয়ানা মেনেই এই পদক্ষেপ।

Shamim Ahamed Ads

মস্কো অবশ্য এটিকে ‘বেআইনি আটক’ বলে দাবি করেছে। রুশ এমপি অ্যালেক্সেই জুরাভলেভ প্রকাশ্যে বলেন, আমেরিকার বিরুদ্ধে সামরিক জবাব দেওয়াই উচিত। তাঁর ভাষায়, “নিজেদের জলসীমা থেকে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে এসে পাহারা দিচ্ছে মার্কিন উপকূলরক্ষীরা। টর্পেডো দিয়ে ওদের বোট ডুবিয়ে দেওয়া উচিত। ভেনেজুয়েলায় অভিযানের পর থেকেই আমেরিকার বাড়াবাড়ি চলছে—গায়ের জোরেই থামাতে হবে।”

তবে এই মন্তব্যকে রুশ সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান বলা যাচ্ছে না। জুরাভলেভ একজন এমপি—তাঁর বক্তব্য ক্রেমলিনের নীতিগত বিবৃতি নয়। এখনও পর্যন্ত রুশ বিদেশমন্ত্রক আমেরিকার বিরুদ্ধে প্রত্যাঘাতের ঘোষণা করেনি। বরং তিন মার্কিন সেনাকর্তা সংবাদ সংস্থা রয়টার্স-কে জানিয়েছেন, জাহাজটির উপর কোনও হামলা না করার অনুরোধ জানিয়েছে মস্কো।

প্রসঙ্গত, ‘বেলা-১’ একসময় ইরানের তেল পরিবহণে ব্যবহৃত হত। পরবর্তী কালে ট্রাম্প প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ভেনেজুয়েলার তেল পরিবহণে জাহাজটি ব্যবহার হচ্ছিল—এমনই দাবি মার্কিন সংবাদমাধ্যমের। আটলান্টিকের এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক জলসীমায় শক্তি প্রদর্শনের রাজনীতি আরও এক ধাপ এগোল বলেই মত কূটনৈতিক মহলের।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত