‘মোদি ফোন করেননি, তাই শুল্কবাণ!’ ভারতের উপর ৫০% ট্যারিফ চাপানোর নেপথ্যে ট্রাম্পের ‘ইগো’, বিস্ফোরক দাবি মার্কিন বাণিজ্য সচিবের

মোদি ফোন না করায় ট্রাম্পের ইগোতে আঘাত—এই কারণেই ভারতের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপানো হয়েছে বলে দাবি মার্কিন বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিকের।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ভারত–আমেরিকা সম্পর্কের অন্দরমহলের টানাপোড়েন এবার প্রকাশ্যে। ভারতের উপর ৫০ শতাংশ মার্কিন শুল্ক চাপানোর নেপথ্যে কোনও অর্থনৈতিক সমীকরণ নয়, বরং ব্যক্তিগত ‘ইগো’ কাজ করেছে—এমনই বিস্ফোরক দাবি করলেন মার্কিন বাণিজ্য সচিব Howard Lutnick। একটি পডকাস্টে তাঁর সরাসরি অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ফোন না করায় ক্ষুব্ধ হন Donald Trump—আর তার ফলেই ভেস্তে যায় ভারত–আমেরিকা বাণিজ্যচুক্তি, উলটে চাপানো হয় কড়া শুল্ক।

লুটনিকের দাবি অনুযায়ী, ভারত ও United States-এর মধ্যে বাণিজ্যচুক্তি কার্যত চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল। শুধু শেষ মুহূর্তের একটি ‘শর্ত’ বাকি ছিল—চুক্তিতে সিলমোহর দিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফোন করবেন মোদি। সেই ফোন এলেই চুক্তি সই হবে, এমন বার্তাই দেওয়া হয়েছিল ভারতীয় পক্ষকে। কিন্তু সেই ফোন আসেনি বলেই অভিযোগ মার্কিন বাণিজ্য সচিবের।

পডকাস্টে তিনি আরও বলেন, ভারতীয় আধিকারিকরা এই শর্তে রাজি হননি। ফলে ট্রাম্প আর মোদির মধ্যে সরাসরি কথা হয়নি। লুটনিকের ভাষায়, “মোদির ফোন না পেয়ে ট্রাম্পের ইগোতে আঘাত লাগে।” এরপর আলোচনার চেষ্টা হলেও বাণিজ্যচুক্তি আর বাস্তবায়িত হয়নি। তার বদলে ভারতের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপায় ওয়াশিংটন।

এতেই শেষ নয়। লুটনিক জানান, ভবিষ্যতে রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলির উপর ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপানোর বিলেও অনুমোদন দিয়েছেন ট্রাম্প। সেই তালিকায় ভারতের নামও উঠে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অর্থাৎ, আগামী দিনে ভারতের উপর আরও শুল্কচাপ বাড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না মার্কিন বাণিজ্য সচিব।

লুটনিক আরও দাবি করেন, ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনামের মতো দেশগুলি বাণিজ্য আলোচনায় ভারতের থেকে অনেক পিছিয়ে ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের সঙ্গেই চুক্তি সেরে ফেলেছে আমেরিকা। বিপরীতে, ভারতের ক্ষেত্রে এখন আর ওয়াশিংটনের আগ্রহ তেমন নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

উল্লেখ্য, কয়েক দিন আগেই ট্রাম্প প্রকাশ্যে বলেছিলেন—তাঁকে খুশি করাটা নাকি মোদির কাছে গুরুত্বপূর্ণ। সেই মন্তব্যের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার মার্কিন বাণিজ্য সচিবের এই বক্তব্য নতুন করে প্রশ্ন তুলছে—ভারত–আমেরিকা সম্পর্ক কি আদৌ কূটনীতির, না কি ব্যক্তিগত সমীকরণের উপর দাঁড়িয়ে? শুল্কযুদ্ধের এই নতুন অধ্যায় যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে আরও টানাপোড়েন তৈরি করবে, তা বলাই বাহুল্য।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন