বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, সেই জল্পনা এখন চরমে। শনিবার নতুন বিজেপি সরকারের শপথ অনুষ্ঠান হলেও এখনও মুখ্যমন্ত্রীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেনি দল। তবে রাজনৈতিক মহলের বড় অংশের নজর শুভেন্দু অধিকারীর দিকেই। এই আবহে মুখ খুললেন তাঁর বাবা তথা প্রাক্তন সাংসদ শিশির অধিকারী। টিভি৯ বাংলাকে দেওয়া এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে তিনি যেমন শুভেন্দুর সাংগঠনিক দক্ষতার প্রশংসা করেছেন, তেমনই জানিয়েছেন, বিজেপির ২০০-র বেশি আসন পাওয়ার ভবিষ্যদ্বাণী তিনি ছ’মাস আগেই করেছিলেন।
মুখ্যমন্ত্রী পদ নিয়ে জল্পনার প্রশ্ন উঠতেই অবশ্য কৌশলী অবস্থান নেন শিশির অধিকারী। তিনি বলেন, “বিজেপি একটি সর্বভারতীয় দল। মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, সেই সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নেয়। তাই এ নিয়ে আমি কিছু বলব না। এটা যদি আঞ্চলিক দল হত, তাহলে হয়তো নাম বলে দিতে পারতাম।” যদিও তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, শুভেন্দুকে ঘিরে জল্পনা যে অমূলক নয়, সেই ইঙ্গিত মিলেছে।


চলতি বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ২০৭টি আসন পেয়েছে। এখনও ফলতা কেন্দ্রে ভোট বাকি থাকলেও এই ফলকে রাজনৈতিক মহল ঐতিহাসিক বলেই মনে করছে। তবে শিশির অধিকারীর দাবি, এই ফল তাঁর কাছে অপ্রত্যাশিত ছিল না। তিনি জানান, প্রায় ছ’মাস আগে বিজেপির এক শীর্ষ সংগঠককে তিনি বলেছিলেন, “মানুষ তৈরি। ২০০-র বেশি আসন হবেই।” তাঁর মতে, দীর্ঘদিনের জনসংযোগ এবং সংগঠনের ভিতই বিজেপির এই সাফল্যের মূল কারণ।
বাংলায় কেন্দ্র ও রাজ্যের সম্পর্ক নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন শিশির অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্র ও রাজ্যের সংঘাতের কারণে বাংলার ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন, “ইন্দিরা গান্ধী ও সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়ের সময়ের পর এই প্রথম কেন্দ্র ও রাজ্যে সুসম্পর্কের সরকার হতে চলেছে। কেন্দ্র একদিকে আর রাজ্য আরেকদিকে চললে উন্নয়ন সম্ভব নয়। বাংলা খুব খারাপ অবস্থার মধ্যে চলে গিয়েছিল।”
ছেলের রাজনৈতিক লড়াই ও পরিশ্রম নিয়েও আবেগঘন মন্তব্য করেছেন শিশির। তাঁর কথায়, গত পাঁচ বছরে শুভেন্দু নিজের পরিবার বা ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ভাবেননি। এক জেলা থেকে আর এক জেলা ছুটে বেড়িয়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করেছেন। শিশির বলেন, “ও কখনও ভাবেনি যে ওর ঘর-সংসার আছে। ভোরে বেরিয়ে মালদহ যাচ্ছে, রাত করে ফিরছে— এই পরিশ্রম সবাই করতে পারে না।”


সংগঠন পরিচালনায় শুভেন্দুর দক্ষতার কথাও তুলে ধরেছেন তিনি। শিশির অধিকারীর দাবি, ভোটের প্রতিটি রাউন্ডে কোথায় কী ফল হবে, তা আগাম আন্দাজ করতে পারতেন শুভেন্দু। তাঁর কথায়, “সংগঠন কাকে বলে, সেটা শুভেন্দু প্রমাণ করে দিয়েছে।”
একইসঙ্গে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। অভিযোগ করেন, মেদিনীপুরকে দীর্ঘদিন অবহেলা করা হয়েছে। তবে বয়স ৮৪ পেরোলেও এখনও রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় থাকার বার্তাও দিয়েছেন শিশির অধিকারী। তাঁর কথায়, “অনেক কাজ এখনও বাকি। এবার আরও বেশি পরিশ্রম করতে হবে।”
সব মিলিয়ে, মুখ্যমন্ত্রী পদ নিয়ে সরাসরি কিছু না বললেও শিশির অধিকারীর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, বিজেপির অন্দরে শুভেন্দু অধিকারীর গুরুত্ব এখন অনেকটাই বেড়েছে। ফলে শনিবারের শপথ অনুষ্ঠানের আগে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ল।







