বিধানসভা ভেঙে দিয়েছে রাজভবন, কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় এখনও নিজেকে ‘মুখ্যমন্ত্রী’ হিসেবেই তুলে ধরছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচনে পরাজয়ের পর ইস্তফা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে আগেই বিতর্কে জড়িয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী। এবার রাজ্যপালের নির্দেশে বিধানসভা ভঙ্গ হওয়ার পরও তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া বায়োতে কোনও পরিবর্তন না হওয়ায় নতুন করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।
বৃহস্পতিবার রাজ্যপাল আর এন রবি আনুষ্ঠানিক ভাবে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভঙ্গের নির্দেশ জারি করেন। তৃতীয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সাংবিধানিক নিয়ম মেনেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর ফলে কার্যত প্রশাসনিক ভাবে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকেও সরে যাওয়ার কথা ছিল মমতার। কিন্তু তাঁর অবস্থানে এখনও কোনও পরিবর্তনের ইঙ্গিত মেলেনি।


ফেসবুকে এখনও তিনিই মুখ্যমন্ত্রী, অবস্থানে অনড় মমতা, শুভেচ্ছা জানালেন মাধ্যমিক উত্তীর্ণ পড়ুয়াদের

নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই মমতা দাবি করে আসছিলেন, এই পরাজয় “স্বাভাবিক নয়” এবং এর নেপথ্যে “চক্রান্ত” রয়েছে। সেই কারণেই তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, স্বেচ্ছায় মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেবেন না। এমনকি এক পর্যায়ে তিনি মন্তব্য করেছিলেন, “রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হলেও ইস্তফা দেব না।”
এই অবস্থান ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। বিরোধীদের দাবি, গণতান্ত্রিক রায়ে পরাজিত হওয়ার পরেও পদ আঁকড়ে থাকার চেষ্টা নজিরবিহীন। যদিও তৃণমূলের একাংশের মতে, মমতার এই অবস্থান রাজনৈতিক প্রতিবাদেরই অংশ।



বাংলার রাজনীতি এর আগেও পালাবদলের সাক্ষী থেকেছে। ২০১১ সালে দীর্ঘ ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসানের পর তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য কোনও বিতর্ক ছাড়াই ইস্তফা দিয়েছিলেন। ফলাফল ঘোষণার পরই তিনি রাজভবনে গিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন। সেই স্মৃতির সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনাও টানা হচ্ছে রাজনৈতিক মহলে।
এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় শুভেচ্ছাবার্তাও পোস্ট করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ছাত্রছাত্রীদের অভিনন্দন জানান তিনি। কিন্তু একই সঙ্গে তাঁর বায়োতে ‘Chief Minister’ পরিচয় বহাল থাকায় বিতর্ক আরও বেড়েছে।







