পুলিশের কাজে বাধার অভিযোগ, ত্রিপুরায় মামলা দায়ের অভিষেক সহ ৬ জনের নামে

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ পুলিশের কাজে বাধার অভিযোগ, রবিবারের দিনভরের ঘটনার পর গতকাল তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সহ আরও ৬ জন তৃণমূলের নেতা মন্ত্রীর নামে মামলা দায়ের করেছ বিপ্লব দেবের পুলিশ। বুধ সকালে একথা ট্যুইট করে জানিয়েছেন তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ।

আরও পড়ুনঃ একদিনে দেশে সংক্রমণ বাড়ল ১০ হাজার, মৃত্যুও ৫০০’র কাছাকাছি

নিজের ট্যুইটার হ্যান্ডেলে কুনাল লিখেছেন, ‘অন্যায় ভাবে ধৃত তৃণমূল কর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য একগুচ্ছ মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে অভিষেক, ব্রাত্য, দোলা, আমি, সুবলদা এবং প্রকাশদার বিরুদ্ধে আইপিসি ১৮৬/৩৪ ধারায় নিজের থেকে মামলা করেছে খোয়াই থানার পুলিশ। ভয় পেয়েছে বিজেপি।’

ত্রিপুরা পুলিশের অভিযোগ পুলিশের কাজে বাধা দিয়েছেন এবং পুলিশের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সহ নেতা মন্ত্রীরা। ঘটনার সূত্রপাত রবিবার। ভোররাতে দেবাংশু-সুদীপদের ত্রিপুরা পুলিশ আটক করলে দলীয় কর্মীদের আগলে রাখতে তড়িঘড়ি ত্রিপুরা ছুটেছিলেন অভিষেক।

ত্রিপুরায় FIR দায়ের অভিষেকের নামে, অভিযোগ পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার। 

পুলিশের কাজে বাধার অভিযোগ, ত্রিপুরায় মামলা দায়ের অভিষেক সহ ৬ জনের নামে
পুলিশের কাজে বাধার অভিযোগ, ত্রিপুরায় মামলা দায়ের অভিষেক সহ ৬ জনের নামে

ত্রিপুরায় পৌঁছেই তৃণমূলের নেতা মন্ত্রীদের নিয়ে খোয়াই থানায় গিয়েছিলেন, সেখানে প্রথমে কথা বলেন খোয়াইয়ের এসডিপিও রাজীব সূত্রধরের সঙ্গে, এবং আটক থাকা তৃণমূল যুবর নেতা নেত্রীদের ছেড়ে দেওয়ার জন্য ও মামলা পরিবর্তন করার জন্য কথা বলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজীব সেনগুপ্ত এর সঙ্গে।

 

 

পুলিশের কাজে বাধার অভিযোগ, ত্রিপুরায় মামলা দায়ের অভিষেক সহ ৬ জনের নামে
পুলিশের কাজে বাধার অভিযোগ, ত্রিপুরায় মামলা দায়ের অভিষেক সহ ৬ জনের নামে

ত্রিপুরা পুলিশের অভিযোগ পুলিশ অভিষেকের কথার সঙ্গে সহমত না হওয়ায় তাঁদের সঙ্গে অভব্য ব্যবহার করেন অভিষেক সহ তৃণমূলের নেতা মন্ত্রীরা। সঙ্গে থানায় ধর্ণা দিয়ে কাজে বাধা দেওয়ার এবং সুদীপ-দেবাংশুদের আদালতে তোলার সময়েও অহেতুক ঝামেলা পাকানোর অভিযোগও আনা হয়েছে তাঁদের নামে। অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে ঘন্টাখানেকের বেশি সময় ধরে পুলিশি কাজে বাধা দেওয়ার দরুন সময়ে আদালতে তোলা যায়নি ধৃত তৃণমূল যুব নেতাদের।

মামলার কথা ছাড়াও কুণাল ঘোষ আরও দুটি ট্যুইট করে লিখেছেন, “আমরা কোর্ট যেতে বাধা দিইনি। ধৃতদের সেকশন জানতে চেয়েছি। এসকর্ট দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ করছি। আইনজীবী আসা পর্যন্ত সময় চেয়েছি। BJP থানা ঘিরেছিল। আমরাই ওদের নিয়ে কোর্টে বেরিয়েছি। কোর্টে সেদিন পুলিশ এরকম কোনও অভিযোগ করেনি।” এরপরই আরও একটি ট্যুইটে লেখেন “আমরা আসল হামলাকারীদের গ্রেপ্তার চেয়েছি। তাদের ছবিও অনেকের কাছে রয়েছে। তার বদলে আক্রান্তরা গ্রেপ্তার। প্রতিবাদীরা গ্রেপ্তার। আইন মেনে ছাড়াতে যাওয়ারা গ্রেপ্তার। ভয় পেয়েছে বিজেপি।”

ত্রিপুরা পুলিশের অভিযোগ পুলিশ অভিষেকের কথার সঙ্গে সহমত না হওয়ায় তাঁদের সঙ্গে
ত্রিপুরা পুলিশের অভিযোগ পুলিশ অভিষেকের কথার সঙ্গে সহমত না হওয়ায় তাঁদের সঙ্গে

ঘটনা প্রসঙ্গে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বাংলার শিক্ষামন্ত্রী এবং এই মুহুর্তে ত্রিপুরায় তৃণমূল বিস্তারের লড়াইয়ে অভিষেকের পঞ্চপান্ডবের একজন, ব্রাত্য বসু। সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘটনার প্রেক্ষিতে তিনি লিখেছেন, “চোপ,ত্রিপুরায় বিপ্লব চলছে!! ভয় পেওনা,ভয় পেওনা তোমায় আমি মারবো না। সত্যি বলছি তোমার সঙ্গে কুস্তি করে পারবোনা। পুলিশ, ২০২৩ এ কিন্ত আমাদের দেখে মাথার টুপিটা খুলিস!! সৌজন্য : বিজয় তেন্ডুলকার,সুকুমার রায় এবং তুষার রায়।” সঙ্গে হ্যাশট্যাগ যোগ করে লিখেছেন, #ত্রিপুরা_এবার_দিদিকে_চায়

তৃণমূল নেত্রী দোলা সেন এই ঘটনা প্রসঙ্গে বলেছেন, “ত্রিপুরার বিজেপি সরকার তৃণমূলকে ভয় পাচ্ছে। কী আর করবে, ডাকবে আমাদের। তবে ওরা যতই বিচার বিভাগকে কেনার চেষ্টা করুক, আইন বিচারের উপর আমাদের আস্থা আছে।” উল্লেখ্য তৃণমূলের যুবদের আটক করার পরেই ত্রিপুরা গিয়ে তাঁদের ছাড়ানোর দাবিতে ঠাঁই থানায় বসেছিলেন অভিষেক। বারবার বলেছিলেন যাঁদের আটক করা হয়েছে তাঁদের অপরাধ জানাতে, অন্যথায় মুক্তি দিতে। রণংদেহি মূর্তি নিয়ে অভিষেকের দলীয় কর্মীদের ছাড়িয়ে আনার ঘটনায় সেদিন রাজনৈতিক মহল বলেছিল মমতার মতোই দলের কর্মীদের জন্য বুক চিতিয়ে লড়ছেন অভিষেক।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত