মুখ্যমন্ত্রী বদল হতে পারে ত্রিপুরায়, সরকার বাঁচাতে হাজির BJP-র প্রতিনিধি দল।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ মুখ্যমন্ত্রী বদল হতে পারে ত্রিপুরায়, নজিরবিহীন শঙ্কটের মুখে বিপ্লব দেবের সরকার। ২০১৮ নির্বাচনে মুকুল ম্যাজিকে ভর করে সুদীপ রায় বর্মনের ক্যারিশমায় দীর্ঘ বাম শাসনের অবসান ঘটে ত্রিপুরায়। পতন হয় মানিক ‘সরকারের’। ১ শতাংশ অর্থাৎ বিজেপির(এনডিএ) থেকে সার্বিক ভাবে মাত্র ৩৩ হাজার ভোট কম পেয়ে পরাজিত হয় বামফ্রন্ট। সুদীপ রায়বর্মনের নেতৃত্বে ইতিহাস গড়ে ত্রিপুরা। কিন্তু আচমকাই পট পরিবর্তন।

আরও পড়ুনঃ ৬২ হাজার টেস্টে আক্রান্ত ৩ হাজার, মাধ্যমিক-HS পরীক্ষার পক্ষে ৭৯ শতাংশ মত!

মুকুল অনুগামী সুদীপ রায়বর্মন কে মুখ্যমন্ত্রী না করে বিপ্লব দেব কে ত্রিপুরার মসনদে বসায় বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী দূরের কথা সুদীপ রায়বর্মনকে সাধারণ মন্ত্রীত্বেও রাখা হয়নি বেশিদিন। মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব কার্যত কোনঠাসা করে রেখেছেন তাকে। মানিক সরকার বিরোধী দলনেতা হলেও দলে(বিজেপি) থেকে বিপ্লবের সব থেকে বিরোধী মুখ সুদীপই। এখন মুকুল ফিরে এসেছেন তৃণমূলে। আর সাথে সাথেই ত্রিপুরায় ভাঙতে শুরু করেছে বিজেপি। অবস্থা সামাল দিতে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল পাঠাচ্ছে বিজেপি।

কিছুদিন আগে থেকেই বিপ্লব দেবের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে একাধিকবার অভিযোগ করেছিলেন বেশ কয়েকজন বিজেপি বিধায়ক। কিন্তু তাতে কর্নপাত করেননি তৎকালীন সভাপতি অমিত শাহ। আর এখন এমন অবস্থা যে সরকার বাঁচানোই দায়। বিজেপি সূত্রে খবর বিপ্লব দেব কে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, কিন্তু তাতে মন গলেনি বিধায়কদের। প্রায় ১৫ জন বিজেপি এবং জোটসঙ্গী আইপিএফটি বিধায়ক বিপ্লবের সরকার থেকে সমর্থন তুলে নিয়ে যোগ দিতে পারেন তৃণমূলে বলে খবর। এই খবর পেয়েই নড়ে চড়ে বসেছে বিজেপি।

বিজেপির পক্ষ থেকে বিএল সন্তোষের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি দল পাঠানো হয়েছে ত্রিপুরায়। তাঁরা সমস্ত বিজেপি বিধায়ক এবং আইপিএফটি বিধায়কদের সাথে বৈঠক করবেন বলে জানাচ্ছে সূত্র। ক্ষমতা ধরে রাখতে বিপ্লব কে সরিয়ে সুদীপ রায় বর্মন কে মুখ্যমন্ত্রীও করা হতে পারে বলে খবর। কারণ সুদীপের নেতৃত্বে ১৫ জন বিধায়ক সমর্থন তুলে নিলে পতন হতে পারে বিজেপি সরকারের।

মুখ্যমন্ত্রী বদল হতে পারে ত্রিপুরায়, সরকার বাঁচাতে হাজির BJP-র প্রতিনিধি দল। এই মুহুর্তে ৬০ আসনের ত্রিপুরা বিধানসভায় ক্ষমতাসীন দল বিজেপি, মোট বিধায়ক ৩৬। সাথে রয়েছে তার সহযোগী দল আইপিএফটি, যার বিধায়ক সংখ্যা ৮। অর্থাৎ এনডিএ জোটের আসন সংখ্যা ৪৪।  অন্যদিকে বিরোধী দল সিপিআইএমের বিধায়ক সংখ্যা মোট ১৬। পরিস্থিতি যখন এমন তখন যদি সুদীপ ১৫ জন বিধায়ক নিয়ে বিজেপি ত্যাগ করে তৃণমূলে যোগ দেন তাহলে চরম শঙ্কটে পড়বে বিপ্লব দেবের বিজেপি সরকার।

সেক্ষেত্রে এনডিএ জোটের বিধায়ক সংখ্যা কমে দাঁড়াবে ৪৪ – ১৫ = ২৯! যে কোন মুহুর্তে অনাস্থার দাবিও করতে পারে সিপিআইএম বা সুদীপের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল!! সবে সবই এখন নির্ভর করছে সুদীপ কে আটকাতে বিজেপি কি নীতি নেয় তার ওপর!

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত