নজরবন্দি ব্যুরোঃ গণনা কেন্দ্রে প্রার্থী প্রবেশ নিয়ে স্পষ্ট নয় নির্দেশ, কমিশনকে চিঠি পাঠাল তৃণমূল। গণনা কেন্দ্রে প্রার্থী প্রবেশে আজই নয়া নয়া নির্দেশিকা এনেছে কমিশন। উপযুক্ত প্রমান ছাড়া প্রার্থী বা তাঁর এজেন্ট প্রবেশ করতে পারবেন না কোন গণনা কেন্দ্রেই। তার জন্য লাগবে একাধিক প্রমানপত্র, কোভিড নেগেটিভ রিপোর্ট। নির্বাচনের একেবারে শেষ লগ্নে এসে এমন নিয়মই জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। আর কমিশনের একের পর এক পদক্ষেপকে ওয়াকিবহাল মহল হাইকোর্টের তিরস্কারের ফল বলেই মনে করছে।
আরও পড়ুনঃ নেই অক্সিজেন, দর হাঁকাচ্ছে অ্যাম্বুলেন্স, দমদমে ৬ ঘন্টা পড়ে রইলো দেহ
করোনা কালে ভোট করানো নিয়ে ইতিমধ্যেই একাধিক জায়গায় মুখ পুড়েছে কমিশনের, দেশের বাংলা সহ আরও ৪ রাজ্যে ভোট চলছে এই মুহূর্তে। তার মধ্যে বাংলাতে সুষ্ঠ ভোট করানোর লক্ষ্যে ২৯৪ আসনের নির্বাচনের জন্য কমিশন মোট ৮ দফার দিনক্ষন ঠিক করেছিলো। অবাধে মিটিং মিছিল হওয়ার ফলে ভোট আবহেই বাংলায় হুহু করে বেড়েছে করোনার গ্রাফ। দেশ জুড়ে এই কঠিন পরিস্থিতিতে ভোট করানোর জন্য আদালতের কাছে ভর্ৎসিত কমিশন আর কনোরকম শিথিলতা রাখতে চায়না কাজে।

গত সপ্তাহে মাদ্রাজ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিচারপতি সেন্থিলকুমার রামমূর্তির ডিভিশন বেঞ্চে মামলার শুনানি শুরু হলে, নির্বাচন কমিশনকে তীব্র ভর্ত্সনা করে বলেন “নির্বাচনী প্রচারে মাস্ক পরা, ফেস শিল্ড পরা, স্যানিটাইজার ব্যবহার করা, সামাজিক দূরত্ব মানার মতো কোভিড বিধি রক্ষা করানোর ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন ব্যর্থ। আদালত যে নির্দেশ দিয়েছিল কমিশনকে তা তারা পালন করতে পারেনি। যখন এত বড় বড় জমায়েত হচ্ছিল নির্বাচনী প্রচারের নামে, তখন কি আপনি অন্য গ্রহে ছিলেন?”
এরপরই রীতিমতো হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি জানান “ভোটের গণনার জন্য কি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে তা ৩০ তারিখের মধ্যে না জানালে ভোট গণনা বন্ধ করে দেব।” মাদ্রাস হাইকোর্টের এই রায়ের পরেই কার্যত টনক নড়ে কমিশনের। তার পরই জানানো হয়েছিলো ২ তারিখ ফল ঘোষণার পর কোন বিজয়মিছিল করা যাবে না। শুধু তাই নয় ভোটে জয়ী প্রার্থী শংসাপত্র নিতে আসবেন তখন শুধুমাত্র প্রার্থী ও তাঁর সাধে সর্বাধিক দুজন আসতে পারবেন।
তার পরই আজ কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, কোনও প্রার্থী যদি গণনা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে চান, তাহলে হয় তাঁকে ভ্যাকসিনের দু’টি ডোজ় নিয়ে থাকতে হবে। অথবা, দেখাতে হবে কোভিড নেগেটিভ সার্টিফিকে, অথবা থাকতে হবে দুটি ডোজ নেওয়ার প্রমাণ পত্র। করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট হতে হবে সাম্প্রতিক তম। অর্থাৎ ৪৮ ঘন্টার পুরনো হলে গ্রাহ্য হবেনা সেই রিপোর্ট।
কিন্তু কমিশনের এই নির্দেশিকার ওপর প্রশ্ন তুলে ইতিমধ্যেই কমিশনকে চিঠি দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। চিঠিতে দলের তরফ থেকে দুটি বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ডেরেক ও’ব্রায়েন। কমিশন নির্দেশিকায় জানিয়েছে, প্রার্থীদের গণনা কেন্দ্রে ঢুকতে গেলে গণনা শুরুর ৪৮ ঘন্টার মধ্যে কোভিড রিপোর্ট নেগেটিভ বা ২টি টিকাকরণের প্রমাণ চায়। সেক্ষেত্রে তৃনমূলের তরফ থেকে প্রশ্ন করা হয়েছে, ৪৮ ঘন্টার মধ্যে বলতে বোঝায় ৪ঠা মের মধ্যে, এ বিষয়ে কমিশনকে স্পষ্ট ভাবে আলোকপাত করতে বলেছেন তিনি।

গণনা কেন্দ্রে প্রার্থী প্রবেশ নিয়ে স্পষ্ট নয় নির্দেশ, কমিশনকে চিঠি পাঠাল তৃণমূল। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে আগেই ২৯ তারিখের মধ্যে জমা দিতে হবে এজেন্টদের নাম। সেক্ষেত্রেও শাসক দলের তরফ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে আগেই নাম জমা দেওয়ার পর যদি অই এজেন্টের রিপোর্ট পজেটিভ আসে সেক্ষেত্রে কী অল্টারনেটিভ বিষয় ভেবে রাখছে কমিশন তা জানতে চায় দল। আজকের কমিশনের নির্দেশিকার ওপর ভিত্তি করে এই দুই প্রশ্ন নিয়ে ইতিমধ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকে চিঠি পাঠানো হয়েছে নির্বাচন কমিশনেক।



