পাঁচ লক্ষ টাকা না দিলে স্কুলে আগুন, ছাত্রীদের ধর্ষণ! হেড দিদিমণিকে লেখা চিঠিতে নাম তৃণমূল নেতার!

পাঁচ লক্ষ টাকা না দিলে স্কুলে আগুন, ছাত্রীদের ধর্ষণ! হেড দিদিমণিকে লেখা চিঠিতে নাম তৃণমূল নেতার!
Trinamool leader gets involved in threatening letter to Bankura Girls High School headmistress

নজরবন্দি ব্যুরোঃ পাঁচ লক্ষটাকা তোলা চেয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষিকাকে হুমকি চিঠি। সময় মতো সেই টাকা না দিলে স্কুলে আগুন লাগানো হবে এবং প্রকাশ্যে ছাত্রীদের ধর্ষণ করা হবে। এই রকমই হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠল তৃণমূল নেতার ‘আপ্ত-সহায়ক’-এর বিরুদ্ধে। চিঠিতে নিজেকে তৃণমূলের বাঁকুড়া জেলা সভাপতি তীর্থঙ্কর কুণ্ডুর ‘আপ্তসহায়ক’ হরপ্রসাদ বিশ্বাস বলে পরিচয় দিয়েছেন ওই ব্যাক্তি।

আরও পড়ুনঃ আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিচ্ছেন না, অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ অরুণাভর!

চিঠিতে লেখা রয়েছে, চিঠিতে লেখা, ‘গত ভোটের ফলাফলে পর আমাদের বাঁকুড়া জেলার ছাত্র পরিষদ সভাপতি তীর্থঙ্কর কুণ্ডুর নেতৃত্বে আগামী দিনে বাঁকুড়া ছাত্র পরিষদ ঢেলে সাজানোর জন্য বিপুল অর্থ সাহায্যের দরকার আছে। তাই আপনাদের প্রত্যেককে জানানো হচ্ছে, আগামী ২৫ তারিখের মধ্যে আমার ৮৭১৪০৭৬৭৭৬— এই নম্বরে নম্বরে যোগাযোগ করে ৫ লক্ষ টাকা জমা দিতে হবে।’

3 1

চিঠির শেষে লেখা রয়েছে, ‘অনাদায়ে আপনাদের কলেজে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হবে। এবং ছাত্রীদের প্রকাশ্যে ধর্ষণ ও প্রাণনাশ করা হবে।’ এই চিঠির খবর ছড়িয়ে পড়তেই হুলস্থুল বেঁধেছে বাঁকুড়া জুড়ে। সেই চিঠি হাতে পেয়েই বাঁকুড়া সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন বাঁকুড়া গার্লস হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা সুমনা ঘোষ।

পাঁচ লক্ষ টাকা না দিলে স্কুলে আগুন, ছাত্রীদের ধর্ষণ! হেড দিদিমণিকে লেখা চিঠিতে নাম তৃণমূল নেতার!
পাঁচ লক্ষ টাকা না দিলে স্কুলে আগুন, ছাত্রীদের ধর্ষণ! হেড দিদিমণিকে লেখা চিঠিতে নাম তৃণমূল নেতার!

তিনি বলেছেন, “চিঠি পাওয়ার পর স্কুল পরিচালন কমিটিকে বিষয়টি জানাই। সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। চিঠিতে ‘কলেজ’ উল্লেখ থাকলেও স্কুলে আমার কাছেই চিঠিটি এসেছে। এই ধরণের ঘটনা আগে ঘটেনি। যে হেতু এই ঘটনার সঙ্গে ছাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি জড়িত, তাই বাঁকুড়া সদর থানায় গোটা ঘটনা জানাই। এই ঘটনা যিনিই করে থাকুন না কেন, তাঁর শাস্তি চাই।”

পাঁচ লক্ষ টাকা না দিলে স্কুলে আগুন, ছাত্রীদের ধর্ষণ! হেড দিদিমণিকে লেখা চিঠিতে নাম তৃণমূল নেতার!

1

তৃণমূলের (TMC) বাঁকুড়া জেলা সভাপতি তীর্থঙ্কর কুণ্ডুও মুখ খুলেছেন চিঠি প্রসঙ্গে। কারন চিঠিতে তাঁরই আপ্তসহায়ক হিসেবে পরিচয় লেখা রয়েছে চিঠি প্রেরকের। তিনি বলেছেন, ‘‘হরপ্রসাদ বিশ্বাস নামে আমার কোনও আপ্ত-সহায়ক নেই। আমি তাঁকে চিনিও না। দলের ভাবমূর্তিকে কালিমালিপ্ত করতেই এই ধরনের কাজ করা হয়েছে। এ কাজ যেই করুক না কেন, দ্রুত তদন্ত করে শাস্তি দেওয়ার ব্যবস্থা করুক পুলিশ।’’