নজরবন্দি ব্যুরোঃ স্কুল সার্ভিস কমিশন হোক, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ। প্রতি ক্ষেত্রেই নজিরবিহীন নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। এমনকি তাঁর নির্দেশে চাকরি গেছে রাজ্যের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী পরেশ অধিকারীর মেয়ের। কয়েকদিন আগেই বিচারপতি বলেন, দুর্নীতিতে যুক্ত কমিশনের সদস্যরা। স্কুল সার্ভিস কমিশনের একজন সদস্য তাঁর বোনকে চাকরি পাইয়ে দিয়েছেন বলে জানতে পেরেছি। অভিযুক্তদের দুর্নীতির ফল ভুগতে হবে।
আরও পড়ুনঃ বড় অঙ্কের টাকা নয়ছয়, পার্থর ঘুম উড়িয়ে সিবিআইয়ের সঙ্গে ইডি


শুধু সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েই ক্ষান্ত থাকেননি বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। সিবিআই যাতে কোনপ্রকার ঢিলেমি না দেয় এই তদন্তে তার জন্যে উপযুক্ত ব্যবস্থাও নিয়েছেন। প্রাথমিক দুর্নীতি মামলায় নির্দেশ দিয়েছেন আদালতের তত্বাবধানে হবে সিবিআই তদন্ত। শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী পরেশ অধিকারীর মেয়েকে চাকরিচ্যুত করে বেতন ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন SSC মামলায়। একই ভাবে তিনি ২৬৯ জন প্রাথমিক শিক্ষককে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছেন TET মামলায়।

শিক্ষক নিয়োগে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপশি বিচারপতি শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান মানিক ভট্টাচার্যকে পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছেন। শুধু তাই নয় আগামী ৫ই জুলাই মানিক কে আদালতে জমা দিতে হবে তাঁর পরিবারের সবার সম্পত্তির হিসেব। সব কটি মামলাই চলছে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাসে। সবথেকে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল। অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের সিঙ্গেল বেঞ্চের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে মানিক বা পার্থ চট্টোপাধ্যায় ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হলেও ডিভিশন বেঞ্চ বহাল রেখেছে সিঙ্গেল বেঞ্চের নির্দেশ।
আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিচ্ছেন না, অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ অরুণাভর!



তবে এই প্রথমবার বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অনধিকার বিচারের অভিযোগ এনেছেন রাজ্যের অন্যতম বিশিষ্ট আইনজীবী অরুণাভ ঘোষ। রাজ্য কংগ্রেসের শীর্ষ স্তরের নেতা অরুণাভ ঘোষ কট্টর তৃণমূল বিরোধী বলেই পরিচিত। কিন্তু এবার তিনি কিছুটা রাজ্য সরকারের পক্ষেই সওয়াল করলেন। অরুণাভ বলেন, বিচারপতি সিবিআই তদন্তের (CBI Probe) নির্দেশ দিতে পারেন। কিন্তু তিনিই ঠিক করে দিচ্ছেন কে কখন সিবিআই দফতরে হাজিরা দেবেন। অথচ যাঁদের এই নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে তাঁরা কেউ ফেরার আসামী নন।

তাঁর কথায়, ওই বিচারপতি(অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়) কাউকে চাকরি থেকে অপসারণ করছেন। বেতন ফেরত দেওয়ার নির্দেশ জারি করছেন। কাউকে পদ থেকে সরিয়ে দিচ্ছেন। অথচ, নির্দেশ জারির আগে তাঁদের বক্তব্য শুনছেন না। অভিযোগ যত গুরুতর হোক না কেন, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ সকলের প্রাপ্য। কিন্তু শিক্ষা সংক্রান্ত মামলায় বিচার ব্যবস্থার সেই মৌলিক কর্তব্য অগ্রাহ্য করছেন বিচারপতি।







