টলিউডের অচলাবস্থা কাটাতে বড় পদক্ষেপ রাজ্যের, প্রকাশ্যে এল ১৮ দফার নতুন রূপরেখা

টলিউডের কাজের পরিবেশ ও পরিকাঠামো ঢেলে সাজাতে রাজ্য সরকারের ১৮ দফার রূপরেখা, টেকনিশিয়ানদের পারিশ্রমিক-সুরক্ষা থেকে শুটিংয়ের অনুমতি ও নতুন ফিল্ম পলিসিতে নজর

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির দীর্ঘদিনের নানা সমস্যা ও অচলাবস্থা কাটাতে এবার বড় পদক্ষেপের পথে রাজ্য সরকার। টলিউডের (Tollywood) কাজের পরিবেশ, টেকনিশিয়ানদের পারিশ্রমিক ও নিরাপত্তা, শুটিংয়ের অনুমতি এবং শিল্পের প্রশাসনিক কাঠামো ঢেলে সাজাতে সামনে এসেছে ১৮ দফার একটি নতুন রূপরেখা। প্রযোজক, পরিচালক এবং টেকনিশিয়ানদের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর পাশাপাশি গোটা ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ করার লক্ষ্যেই এই পরিকল্পনা।

এই রূপরেখায় টেকনিশিয়ানদের বকেয়া পারিশ্রমিক এবং নির্ধারিত হারের তুলনায় কম টাকা দেওয়ার মতো বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এমন অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট লাইন প্রোডিউসার বা প্রযোজককে ব্ল্যাকলিস্ট করার প্রস্তাব রয়েছে। একইসঙ্গে প্রযোজকদের জন্য একটি নির্দিষ্ট SOP বা Standard Operating Procedure তৈরির পরিকল্পনাও করা হয়েছে।

শুধু পারিশ্রমিক নয়, শুটিংয়ের সময় টেকনিশিয়ানদের কর্মপরিবেশ নিয়েও একাধিক প্রস্তাব রাখা হয়েছে। রাতে শুটিং শেষ হলে কর্মীদের নিরাপদে বাড়ি ফেরার জন্য পরিবহণের ব্যবস্থা, নির্দিষ্ট সময়ে খাবারের সুযোগ এবং ফিল্ম ফ্লোরে প্রত্যেকের সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ নিশ্চিত করার বিষয়টি রূপরেখায় গুরুত্ব পেয়েছে।

শুটিংয়ের অনুমতি পাওয়ার প্রক্রিয়া নিয়েও পরিবর্তনের পরিকল্পনা রয়েছে। বিভিন্ন দফতরের অনুমতির জন্য জটিলতা কমিয়ে Single Window Clearance System চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এই ব্যবস্থার সঙ্গে শিল্পসাথী এবং WAVES প্ল্যাটফর্মকে কীভাবে ব্যবহার করা যায়, তা নিয়েও পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য রাজ্যের নিজস্ব ‘West Bengal Film & Shooting Policy’ আনার প্রস্তাবও রয়েছে। এই নীতির মাধ্যমে শুটিং থেকে শুরু করে পরিকাঠামো এবং শিল্পের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন পক্ষের কাজের ক্ষেত্রে আরও সুসংহত কাঠামো তৈরি করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্রেও একাধিক বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। টেকনিশিয়ান এবং শিল্পীদের সরকারি স্বাস্থ্যবিমার আওতায় আনার সম্ভাবনা যাচাই করা হবে। পাশাপাশি তাঁদের Provident Fund বা PF-এর মতো সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা যায় কি না, সেটিও পর্যালোচনার মধ্যে রয়েছে।

ডিজিটাল ব্যবস্থাপনাতেও জোর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। টেকনিশিয়ানদের তথ্য নিয়ে Digital Manpower Database তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। গিল্ডের পরিষেবাগুলিকে আরও সহজলভ্য করতে মোবাইল অ্যাপ এবং সমস্যা বা অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য Grievance Redressal Cell গঠনের প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।

বাংলা ছবির প্রদর্শন ও বাজার সম্প্রসারণের বিষয়টিও বাদ পড়েনি। সরকারি অডিটোরিয়ামগুলিতে নিয়মিত বাংলা ছবি প্রদর্শনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। একইসঙ্গে স্টুডিও ভাড়া এবং ডিজিটাল চার্জের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা আনা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলা সিনেমার প্রসার বাড়ানোর বিষয়েও উদ্যোগের কথা রয়েছে।

ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির সংগঠনগুলির কাঠামো নিয়েও একাধিক প্রস্তাব সামনে এসেছে। ফেডারেশনের কার্যালয় দ্রুত পুনরায় চালু করার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রযোজকদের স্বার্থ ও সমস্যাগুলি আলাদাভাবে দেখার জন্য পৃথক Producers’ Association গঠনের প্রস্তাবও রয়েছে।

গিল্ড সদস্যদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া FIR প্রত্যাহারের বিষয়টিও পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া হয়নি। এই সংক্রান্ত আবেদনগুলি আইনি দিক থেকে পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা রাখা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, ১৮ দফার এই রূপরেখার লক্ষ্য শুধুমাত্র তাৎক্ষণিক সমস্যা মেটানো নয়, বরং বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির কাজের পরিবেশ এবং প্রশাসনিক কাঠামোকে দীর্ঘমেয়াদে আরও সংগঠিত করা। সিদ্ধান্তগুলি বাস্তবে কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা যাচাই করতে আগামী তিন মাস পর ফের গোটা বিষয়টি পর্যালোচনা করবে রাজ্য সরকার।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন