রাজ্যের কলেজে শিগগিরই ছাত্র সংসদ নির্বাচন, ‘গেরুয়া আবির’ উড়বে বলে বড় বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

দীর্ঘদিন পর রাজ্যের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে বড় ইঙ্গিত, যাদবপুরের অশান্তির আবহে মুখ্যমন্ত্রীর ‘গেরুয়া আবির’ মন্তব্যে তুঙ্গে রাজনৈতিক চর্চা

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

দীর্ঘ অপেক্ষার পর রাজ্যের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ছাত্র সংসদ নির্বাচন ফেরানোর ইঙ্গিত মিলল। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে সাম্প্রতিক অশান্তি ও ছাত্র সংগঠনগুলির সংঘর্ষের আবহে শুক্রবার ছাত্র ভোট নিয়ে বড় বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। যাদবপুরে অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তাঁর দাবি, দ্রুত ছাত্র সংসদ নির্বাচন হবে এবং কলেজে কলেজে ‘গেরুয়া আবির’ উড়বে।

রাজ্যের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে দীর্ঘদিন ছাত্র সংসদ নির্বাচন না হওয়া নিয়ে বিরোধীদের পাশাপাশি পড়ুয়াদের একাংশের মধ্যেও ক্ষোভ রয়েছে। নতুন করে নির্বাচন চালুর দাবি বিভিন্ন সময়ে উঠেছে। ছাত্র সংসদ সক্রিয় না থাকায় ক্যাম্পাসের গণতান্ত্রিক পরিসর নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে একাধিক ছাত্র সংগঠন।

সম্প্রতি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংগঠনগুলির মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। সেই অশান্তির সূত্রপাত হয়েছিল ভেঙে যাওয়া ছাত্র সংসদের সাধারণ সভা বা GB Meeting ঘিরে। ছাত্র সংসদের অস্তিত্ব না থাকলে সেই সভা কীভাবে হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ বা এবিভিপি (ABVP)।

ঘটনার পরই বিভিন্ন মহল থেকে দ্রুত ছাত্র সংসদ নির্বাচন করার দাবি জোরালো হয়। এবিভিপির পাশাপাশি অন্য ছাত্র সংগঠনগুলিও নিজেদের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক শক্তি যাচাইয়ের সুযোগ হিসেবে নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ছাত্র সংসদ গঠনের দাবিই এখন আলোচনার কেন্দ্রে।

এই আবহেই শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, শিগগিরই ছাত্র সংসদের নির্বাচন হবে। একইসঙ্গে তাঁর দাবি, নির্বাচনে এবিভিপি জয়ী হবে এবং বিভিন্ন কলেজে ‘গেরুয়া আবির’ উড়বে। মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য যে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, তা নিয়ে কোনও সংশয় নেই।

ছাত্র রাজনীতির গুরুত্ব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। ছাত্র সংগঠন থেকেই বহু নেতা পরবর্তীকালে মূলধারার রাজনীতিতে উঠে এসেছেন। ফলে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচন শুধু ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়, ভবিষ্যতের রাজনৈতিক নেতৃত্ব তৈরির ক্ষেত্র হিসেবেও তা গুরুত্বপূর্ণ।

রাজ্যে দীর্ঘ সময় ছাত্র সংসদ নির্বাচন না হওয়া নিয়ে পড়ুয়াদের একাংশের মধ্যে যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণায় তা কিছুটা প্রশমিত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে কবে থেকে নির্বাচন শুরু হবে, কোন কোন প্রতিষ্ঠানে প্রথম ধাপে ভোট হবে এবং কী নিয়মে নির্বাচন পরিচালিত হবে—এই বিষয়গুলি এখনও স্পষ্ট নয়।

রাজ্যের বহু উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এবিভিপির সাংগঠনিক উপস্থিতি এখনও সীমিত। তাই সত্যিই যদি ছাত্র সংসদ নির্বাচন শুরু হয়, তাহলে গেরুয়া ছাত্র সংগঠনের সামনে নিজেদের সংগঠন বিস্তারের বড় সুযোগ তৈরি হতে পারে। একইসঙ্গে ভোট হলে ক্যাম্পাসে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সমীকরণ কতটা বদলায়, এখন সেটাই দেখার।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন