নজরবন্দি ব্যুরো: নেপালে ভয়াবহ হড়পা বানের পর উদ্ধারকাজে বিদেশি সাহায্য নেওয়া নিয়ে বড়সড় অবস্থান বদল কাঠমান্ডুর। ভারত-সহ আটটি দেশের বিদেশি উদ্ধারকারী দলকে দেশে ঢোকার প্রস্তাব প্রথমে খারিজ করলেও এবার নির্দিষ্ট এলাকায় বিদেশি বিশেষজ্ঞদের কাজ করার অনুমতি দিতে চলেছে নেপাল সরকার। নিখোঁজ বিদেশি নাগরিকদের নিয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলির কূটনৈতিক চাপের পরেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানা যাচ্ছে।
নেপালের সরকারি এক আধিকারিক কাঠমান্ডু পোস্টকে জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক মহল থেকে প্রবল চাপ আসছিল। নিখোঁজ নাগরিকদের সন্ধানে সংশ্লিষ্ট দেশগুলি নিজেদের উদ্ধারকারী দল পাঠানোর দাবি জানাচ্ছিল। সেই পরিস্থিতিতেই নেপাল সরকার সিদ্ধান্ত বদলে কিছু এলাকায় নির্দিষ্ট সংখ্যক বিদেশি বিশেষজ্ঞকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বুধবার নেপালের রাসুয়া জেলায় ভয়াবহ হড়পা বানের পর পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়েছে। শুক্রবার পর্যন্ত প্রায় ৫৫০টি দেহ উদ্ধার হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে খবর। এখনও নিখোঁজ প্রায় ৯৭৭ জন। তাঁদের মধ্যে ৫১৭ জন বিদেশি নাগরিক, যাঁরা ভারত, আমেরিকা, ইউক্রেন, অস্ট্রেলিয়া-সহ মোট ৩১টি দেশ থেকে নেপালে গিয়েছিলেন।
এই বিপুল সংখ্যক বিদেশি নাগরিকের নিখোঁজ থাকার বিষয়টিই নেপালের উপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়িয়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলির কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা নিজেদের নাগরিকদের উদ্ধারে সরাসরি সাহায্য করার জন্য চাপ দিতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত সেই চাপের মুখেই বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সীমিত পরিসরে কাজের অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে খবর।
এর আগে অবশ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন অবস্থান নিয়েছিল বলেন্দ্র শাহ (Balendra Shah)-র সরকার। ভারত-সহ আটটি দেশের পক্ষ থেকে বিদেশি উদ্ধারকারী দল পাঠানোর প্রস্তাব দেওয়া হলেও তা প্রত্যাখ্যান করেছিল কাঠমান্ডু। নেপালের বক্তব্য ছিল, দেশের সেনা, পুলিশ এবং স্থানীয় উদ্ধারকারী সংস্থাগুলির উপরই সরকারের আস্থা রয়েছে।
বিদেশি উদ্ধারকারী দল না নিলেও আর্থিক ও ত্রাণ সহায়তা গ্রহণে আপত্তি ছিল না নেপালের। সে সময় নেপালের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র লোক বাহাদুর ছেত্রী জানিয়েছিলেন, আন্তর্জাতিক মহলের সাহায্যের প্রস্তাব স্বাভাবিক হলেও তাঁদের নিজস্ব উদ্ধারকারী দলই পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছে।
এর মধ্যেই ভারতের তরফে নেপালের পাশে থাকার বার্তা আসে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) বিপর্যয়ের পরেই নেপালের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলে সম্ভাব্য সব ধরনের সাহায্যের আশ্বাস দেন। ইতিমধ্যে ত্রাণসামগ্রী নিয়ে ভারতের দু’টি বিমান নেপালে পৌঁছেছে এবং শুক্রবার তৃতীয় বিমানও রওনা হয়েছে।
বিদেশি উদ্ধারকারী দল নিয়ে নেপালের প্রথম অবস্থানের নেপথ্যে সেনা ও পুলিশের পরামর্শ ছিল বলেও স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে। ২০১৫ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের অভিজ্ঞতাও আলোচনায় এসেছে। সে বার বিভিন্ন দেশ থেকে উদ্ধারকারী দল নেপালে পৌঁছলেও একাধিক জায়গায় উদ্ধারকাজের সমন্বয় নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছিল বলে উল্লেখ করা হচ্ছে।
তবে এবারের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা। নিখোঁজদের তালিকায় শত শত বিদেশি নাগরিকের নাম থাকায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলির চাপ ক্রমেই বাড়ছিল। শেষ পর্যন্ত বিদেশি উদ্ধারকারী দলকে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যানের অবস্থান থেকে সরে এসে নির্দিষ্ট এলাকায় সীমিত সংখ্যক বিদেশি বিশেষজ্ঞকে কাজের অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কাঠমান্ডু। ভয়াবহ বিপর্যয়ের মাঝে এই সিদ্ধান্ত নেপালের কূটনৈতিক অবস্থানেও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।



