নজরবন্দি ব্যুরো: আতঙ্কে স্বস্তি, তবুও কাটছে না ভয়। যেহারে গোটা দেশে সংক্রমিত হয়েছে করোনার ভাইরাস, তাতে এই মুহূর্তে মানুষ বেঁচে থাকছেন ভয় আর আতঙ্ক নিয়ে। গোটা দেশ বিপর্যস্ত অতিমারীর কবলে। একে একে ভেঙে পড়ছে স্বাস্থ্য পরিকাঠামো আর ভাঙছে মানুষের মনোবল। দেশের এই কঠিন পরিস্থিতিতে পাশে দাঁড়িয়েছে প্রতিবেশী সব দেশ।
আরও পড়ুনঃ দেশে একদিনে করোনা আক্রান্ত ৩ লক্ষ ৬১ হাজার, রেকর্ড গড়লো মৃত্যু সংখ্যাও
অবস্থা খুব ভালো কিছু নয় রাজ্যের। করোনা কালের নির্বাচনে কয়েকদিনেই লাফিয়ে বেড়েছে সংক্রমণ। সাধারণ মানুষের পাশপাশি দ্বিতীয় ওয়েভের ধাক্কায় আহত একাধিক শিল্পী, আক্রান্ত বহু প্রার্থী। এই প্রবল গতিতে ছড়িয়ে পড়া সংক্রমণের কাছে একে একে বিপর্যস্ত হচ্ছে কাঠামো। বাংলায় এখনো প্রবল অক্সিজেন সংকট দেখা না দিলেও শেষ হচ্ছে ধীরে ধীরে। কম পড়ছে ভ্যাকসিনেও।
রাজ্যে ধীরে ধীরে কমছে টিকার ভান্ডার। ইতিমধ্যে একাধিক স্থানে ভ্যাক্সিনের অভাবে বন্ধ হয়েছে টিকাকরণ। বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে ফিরে আসতে হয়েছে সাধারণ মানুষকে। এই পরিস্থিতিতে কিছুটা আশার আলো দেখাতে আজই রাজ্যে আসছে আরও ৪ লক্ষ কোভিশিল্ড। রাজ্যের পরিস্থিতি খারাপের দিকে যেতেই প্রশাসনের তরফ থেকে আর্জি জানানো হয়েছিল আরও বেশি পরিমাণ ভ্যাক্সিনের যোগান দিতে।
কেন্দ্রের উদাসীনতা নিয়ে একাধিক বার প্রশ্ন তুলেছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছেন রাজ্যে ক্ষমতায় ফিরেই বিনামূল্যে ভ্যাক্সিন দেবেন প্রাপ্ত বয়স্ক সকলকে। এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের থেকে আগাম এবং লিখিত অনুমতি নিয়ে প্রশাসনের শীর্ষকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই বৈঠকে তিন কোটি করোনার ভ্যাকসিন জোগাড় করতে পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্য সরকার। তিনি জানিয়েছেন কেন্দ্রের থেকে ভ্যাক্সিন কিনে রাজ্যবাসীকে বিনামূল্যে দেবেন।
আতঙ্কে স্বস্তি, পরিস্থিতি সামাল দিতে সোমবারই রাজ্যে এসেছে ৩ লক্ষ কোভিশিল্ড। সোমবার বিকেলে এয়ার এশিয়ার বিমানে পৌঁছয় সেরামের তৈরি এই করোনা প্রতিষেধক। তার পর ফের আজ দুপুর নাগাদ রাজ্যে আসতে চলেছে আরও ৪ লক্ষ ভ্যাক্সিন। সূত্রের খবর সার পর বাগবাজারে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের স্টোরে যাবে ওই ভ্যাকসিন। সন্ধ্যার পর থেকেই বিভিন্ন জেলাগুলিতে তা বিতরনের প্রক্রিয়া শুরু হবে।



