আবহাওয়ার খবর: জামাই ষষ্ঠীর দিনেই রাজ্যজুড়ে বৃষ্টির দাপট আরও বাড়ার আশঙ্কা। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় দুপুর ২টো থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ভারী বর্ষণ হতে পারে। একইসঙ্গে উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলায় জারি হয়েছে লাল সতর্কতা, ফলে সপ্তাহান্তে দুর্যোগের ছবি আরও স্পষ্ট হচ্ছে।
কলকাতা, হাওড়া, হুগলি-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ অংশে সকাল থেকেই দফায় দফায় বৃষ্টি চলছে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, শনিবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়বে। বজ্রবিদ্যুৎ-সহ মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে একাধিক জেলায়।
দক্ষিণবঙ্গের মোট ১০ জেলায় হলুদ ও কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে প্রশাসনকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কলকাতায় জল জমার পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নিয়েছে কলকাতা পুরসভা।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। জল জমার সম্ভাবনা থাকা রাস্তাগুলিতে সাকশন মেশিন প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত পাম্প ব্যবহার করে দ্রুত জল নিষ্কাশনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন পুর কমিশনার স্মিতা পান্ডে।

অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির পরিস্থিতি ইতিমধ্যেই উদ্বেগজনক। দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার ও জলপাইগুড়িতে জারি হয়েছে লাল সতর্কতা। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, এই জেলাগুলিতে বিক্ষিপ্তভাবে অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে।
রাতভর প্রবল বর্ষণের জেরে ফুলেফেঁপে উঠেছে বালাসন নদী। বেড়েছে তিস্তার জলস্তরও। কার্শিয়ঙের দুধিয়ায় একটি অস্থায়ী সেতু ভেঙে যাওয়ায় শিলিগুড়ি-মিরিক যোগাযোগ সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এছাড়াও মাহানতি এলাকায় জাতীয় সড়ক ১১০-এর কাছে ধস নামার ঘটনা ঘটেছে।
পাহাড়ের একাধিক এলাকায় ছোট-বড় ধসের খবর পাওয়া গিয়েছে। প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে নজরদারি বাড়িয়েছে এবং প্রয়োজনীয় উদ্ধার ও মেরামতির কাজ শুরু করেছে।
এদিন সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, গত রাত থেকে লাগাতার ভারী বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। তাঁর কথায়, সবচেয়ে বড় ক্ষতির মধ্যে রয়েছে একটি সেতু সম্পূর্ণ ভেসে যাওয়ার ঘটনা। যদিও অধিকাংশ নদীর জলস্তর এখনও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, তবে কোচবিহারের মেখলিগঞ্জ এলাকায় নদীর জল বিপদসীমার সামান্য উপরে রয়েছে।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস বলছে, আগামী বুধবার পর্যন্ত বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে জামাই ষষ্ঠীর উৎসবের আবহের মাঝেও রাজ্যের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের পাহাড় ও নদী সংলগ্ন এলাকাগুলিতে।



