ভোটের ময়দানে এবার সরাসরি প্রতিশ্রুতির লড়াই—একদিকে ‘দিদির ১০ প্রতিজ্ঞা’, অন্যদিকে বিজেপির ‘সঙ্কল্প পত্র’-এর ১৫ দফা ঘোষণা। দুই প্রধান রাজনৈতিক শক্তির ইস্তেহারে সাধারণ মানুষের জন্য একাধিক প্রতিশ্রুতি থাকলেও, লক্ষ্য ও প্রয়োগের ক্ষেত্রে স্পষ্ট ফারাক ধরা পড়ছে।
বিধানসভা নির্বাচনের আগে Trinamool Congress আগেই প্রকাশ করেছিল ‘দিদির দশ প্রতিজ্ঞা’। পরে কলকাতায় Amit Shah-এর হাত ধরে নিজেদের সঙ্কল্প পত্র প্রকাশ করে Bharatiya Janata Party। দুই পক্ষই নারী, যুবক, কৃষক থেকে স্বাস্থ্য—প্রায় সব ক্ষেত্রেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে সংখ্যার পাশাপাশি দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্যই এখন আলোচনার কেন্দ্রে।
নারীকল্যাণে প্রতিযোগিতা, অঙ্কে বড় ফারাক
তৃণমূলের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে মাসিক ভাতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি থাকলেও, বিজেপি সরাসরি ৩ হাজার টাকা দেওয়ার ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি সরকারি চাকরিতে ৩৩% সংরক্ষণ, ‘দুর্গা সুরক্ষা বাহিনী’ গঠন এবং মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে পরিবহণ—এই দিকগুলোতে বিজেপির প্রতিশ্রুতি বেশি বিস্তৃত।
যুবকদের জন্য ভাতা বনাম চাকরির প্রতিশ্রুতি
তৃণমূলের যুবসাথী প্রকল্পে মাসিক ভাতা ইতিমধ্যেই চালু হয়েছে। অন্যদিকে বিজেপি বেকারদের মাসে ৩ হাজার টাকা সহায়তা, পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য এককালীন অনুদান এবং ৫ বছরে ১ কোটি চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। স্বচ্ছ নিয়োগ ব্যবস্থার কথাও বলেছে গেরুয়া শিবির।
কৃষিক্ষেত্রে সহায়তা, দুই মডেল
তৃণমূল কৃষকদের জন্য বড় বাজেট বরাদ্দ ও সরাসরি আর্থিক সাহায্যের কথা বলেছে। বিজেপি বছরে ৯ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি ফসলের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ধান, আলু ও আম চাষে বিশেষ জোরের কথাও বলা হয়েছে।
স্বাস্থ্য ও পরিকাঠামোয় আলাদা ফোকাস
তৃণমূলের ‘দুয়ারে চিকিৎসা’ ও প্রবীণদের যত্নের পরিকল্পনার বিপরীতে বিজেপি Ayushman Bharat চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এছাড়া উত্তরবঙ্গে নতুন AIIMS, মহিলাদের এইচপিভি টিকাকরণ ও ক্যান্সার পরীক্ষার ব্যবস্থার কথাও রয়েছে।
নীতিগত ও সাংবিধানিক প্রতিশ্রুতি
বিজেপির সঙ্কল্প পত্রে রয়েছে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালুর উদ্যোগ, ভাষাগত স্বীকৃতি এবং ধর্মাচরণের স্বাধীনতা রক্ষায় আইন আনার প্রতিশ্রুতি। অন্যদিকে তৃণমূল প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণে জোর দিয়ে নতুন জেলা ও পুরসভা তৈরির কথা বলেছে। পাশাপাশি পাকা বাড়ি ও বিশুদ্ধ পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রয়েছে।
সব মিলিয়ে, দুই দলের ইস্তেহারে সাধারণ মানুষের জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে এমন একাধিক প্রতিশ্রুতি থাকলেও, বাস্তবায়নের পথ ও অগ্রাধিকারে রয়েছে স্পষ্ট পার্থক্য। এখন ভোটাররাই ঠিক করবেন, কোন প্রতিশ্রুতিতে বেশি আস্থা রাখবেন।



